মির্জাপুরে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় অনুপস্থিত অধিকাংশই বাল্যবিয়ের শিকার

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০১৭, ২১:৫১
 
মির্জাপুরে ৬টি পরীক্ষা কেন্দ্রে শুরু হওয়া ২০১৭ সালের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় অনুপস্থিত ১৫৫ জনই বাল্যবিয়ের শিকার বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধের জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও তা কোন কাজে আসছে না। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। বৃহস্পতিবার মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
 
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার ৫৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১৪টি দাখিল মাদ্রাসা থেকে প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থী জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। উপজেলার মির্জাপুর এসকে পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, রাজাবাড়ি ক্যাডেট কলেজ কেন্দ্র, বাঁশতৈল মো. মনশুর আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, জামুর্কি এ জে উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, মির্জাপুর পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র ও মির্জাপুর আফাজ উদ্দিন সিনিয়র দাখিল মাদ্রাসা এই ৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। 
 
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাকির হোসেন মোল্লা জানান, সাধারণ শাখায় ৭ হাজার ৪৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় দিন উপস্থিত ছিল ৭ হাজার ৩৩৪ এবং মাদ্রাসা শাখায় ৪৯৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল ৪৪৫ জন। এছাড়া কারিগরি শাখা থেকেও প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। অনুপস্থিত রয়েছে ১৫৫ জন।
 
প্রতিটি কেন্দ্রে নকল মুক্ত ও সুষ্ঠুভাবে গ্রহণের লক্ষে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আজগর হোসেন, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল হক মিজানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন। প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে এ বছরই প্রথম অধিক সংখ্যক পুলিশ ও আনসার বাহিনী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত সাদমীন বলেন, বাল্য বিয়ে প্রতিরোধের জন্য কঠোর পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে। তারপরও শিক্ষক ও পরিবারের অগোচরে কিছু বাল্যবিয়ে হয়েছে। এ বছর প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সুষ্ঠু ও সম্পুর্ন নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি