নারীদের পেটানোর অভিযোগ নাচোল মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০১৭, ২৩:২৯
 
নাচোল উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অফিস স্টাফ দিয়ে নারীদের পিটিয়ে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত চারজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে। 
 
আহতরা হলেন- নেজামপুর ইউনিয়নের ধরইল দীঘিপাড়া গ্রামের নগেন টুডুর স্ত্রী মর্জিনা বাসকি (৪৫), নাচোল ইউনিয়নের পশ্চিম লক্ষণপুর গ্রামের রুবিন হেমরমের স্ত্রী এলিনা মার্ডি (৩০), হাঁকরইল গ্রামের আইনুদ্দিনের স্ত্রী মাতুয়ারা (৩১) ও বাজে হাঁকরইল গ্রামের আনারুল ইসলামের স্ত্রী নুরুন নাহার (৩২)। 
 
ঘটনাটি উপজেলা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল কাদের, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ নাজমুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জান্নাতুন নঈম মুন্নি, নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ চৌধুরী জোবায়ের আহাম্মদ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। 
 
এ ঘটনায় আহত নেজামপুর ইউনিয়ন নারী উন্নয়ন সংস্থার সভানেত্রী মর্জিনা বাসকি বলেন, ইউনিয়নভিত্তিক নাচোল নারী উন্নয়ন সংস্থা ও উপজেলাভিত্তিক একটি ফেডারেশন নিবন্ধন করার জন্য ৫ মাস ধরে আমরা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কাছে ধরনা দিচ্ছি। কিন্তু তিনি নিবন্ধন না করে এড়িয়ে যান। দুইদিন আগে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানকে অবহিত করেছি। বৃহস্পতিবার আমরা নারী উন্নয়ন সংস্থার দুই শতাধিক সদস্যসহ নিবন্ধন করার জন্য আবারও মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কাছে যাই। কিন্তু তিনি আমাদের সহযোগিতা না করে উল্টো তার সামনের চেয়ারে বসায় চরম দুর্ব্যবহার ও অপদস্থ করেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানালে তিনি অফিস স্টাফ দিয়ে আমাদের মারধর করে অফিস থেকে বের করে দেন। এতে আমিসহ চারজন আহত হই।’
 
উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা শিরিন আখতার নারী উন্নয়ন সংস্থার সদস্যদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘উল্টো তারা আমাকে মারধর করেছে। আমার চশমাও ভেঙে ফেলেছে।’ এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। 
 
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জান্নাতুন নঈম মুন্নি চারজন নারী সদস্য আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ‘নারী উন্নয়ন সংস্থার সদস্যরা নিবন্ধন করার জন্য সোমবার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। আমি তাদেরকে মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কাছে নিয়ে গেলে নিবন্ধন করা যাবে না বলে জানান তিনি। পরে তাদের নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে যাই। তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।’ মুন্নি আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবারও দুই শতাধিক নারী সদস্য আমার কাছে আসেন। তারা আমাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বৃহস্পতিবার বিষয়টি ফয়সালা করা হবে। হয় নিবন্ধন দিবে, না হলে অফিস স্পষ্ট জানিয়ে দিবে নিবন্ধন করতে পারবে না। আমরা গরিব মানুষ, প্রতিদিন অফিস ঘোরা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’ ঘটনা ঘটার সময় মুন্নি তার অফিস কক্ষে ছিলেন বলে জানান। তিনি আরও জানান, ‘ঘটনাটি শুনে দ্রুত মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার অফিসে যাই এবং সেখানে গিয়ে দেখি নারী উন্নয়ন সংস্থার সদস্যরা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাকে ঘিরে রেখেছেন।’ 
 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ নাজমুল হক জানান, ‘বৃহস্পতিবার নারী উন্নয়ন সংস্থার সদস্যদের নিবন্ধনের আবেদন গ্রহণ করার কথা ছিল। কিন্তু সদস্যদের দাবি আবেদনপত্র মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাকেই গ্রহণ করতে হবে। এ নিয়েই নারী সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর তাদেরকে ওই কর্মকর্তার কক্ষ থেকে বের হয়ে আসতে দেখি।’ তবে চারজন আহত হওয়ার বিষয়টি তিনিও শুনেছেন বলে জানান।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি