কুমড়া বড়ি তৈরীতে ব্যস্ত নওগাঁর নারীরা

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০১৭, ১৪:৪৭
সকালে ঘাসের ডগায় শিশির ভেজা মুক্তকণা জানান দিচ্ছে আসছে শীত। কার্তিক মাসে সকাল-সন্ধ্যায় হালকা মৃদু ঠাণ্ডা বাতাস বইছে। গরম কাপড় ব্যবহার করতে শুরু করেছে অনেকেই। আর শীতের আগমনে কুমড়া বড়ি তৈরীর ধূম পড়েছে নওগাঁয়। এ মৌসুমে কুমড়া বড়ি তৈরী করে কিছুটা বাড়তি আয় করছেন এলাকার গ্রামীণ নারীরা। এ জেলায় উত্পাদিত কুমড়া বড়ি দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি হচ্ছে।
 
জানা গেছে, জেলা শহরের সুলতানপুর মহল্লা, রাণীনগর, মান্দা, আত্রাই, মহাদেবপুর ও বদলগাছী উপজেলার প্রায় তিন হাজার গ্রামীণ নারীরা কুমড়া বড়ি তৈরীর সাথে সম্পৃক্ত। সারা বছরই কমবেশী কুমড়া বড়ি তৈরী হয়। তবে শীত মৌসুমে এটার চাহিদা বেশি থাকে। বিশেষ করে আশ্বিন, কার্তিক ও অগ্রহায়ণ এ তিন মাস। আর এ সুযোগে গ্রামীণ নারীরা বাড়তি আয় করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
 
কুমড়া বড়ি তৈরীর প্রধান উপকরণ মাসকালাই ও কুমড়া। এ মৌসুম এখন বাড়ি বাড়ি চলছে সুস্বাদু খাবার কুমড়া বড়ি তৈরি। বিভিন্ন হাট-বাজারে ব্যাপক হারে পাওয়া যাচ্ছে এই সুস্বাদু খাবার কুমড়া বড়ি। প্রতিকেজি মাসকলাই ৬০-৭০ টাকা কেজি। একটি বড় আকারে কুমড়া ৪৫-৫০ টাকা। মাসকালাই প্রথমে রোদে শুকিয়ে যাতায় ভেঙে পরিষ্কার করে ৩-৪ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। ১০ কেজি মাসকালাই থেকে আট কেজি ডাল পাওয়া যায়। এর সাথে ৪-৫ কেজি ওজনের কুমড়া এবং ২০ টাকার মসলা দিতে হয়। এরপর ভোর রাত থেকে সেটি শিল-পাটায় ডাল মিহি করে গুঁড়ো করা হয়। বর্তমানে অনেক এলাকায় মেশিনের সাহায্যে প্রতিকেজি ১০টাকা করে মাসকালাই ও কুমড়া দিয়ে মিহি করা হচ্ছে।
 
সকাল থেকে বেলা প্রায় ১০টা পর্যন্ত কুমড়া বড়ি তৈরীর কার্যক্রম চলে। কুমড়া বড়ি তৈরির পর ২-৩দিন একটানা রোদে শুকাতে হয়। সূর্যের আলো একটু কম হলে ৩-৪ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। ৮ কেজি কাচাঁমাল শুকিয়ে প্রায় ৬ কেজি কুমড়া বড়ি পাওয়া যায়। শুকিয়ে খাবার উপযোগী হলে হাট-বাজারে খুচরা ও পাইকারী বিক্রয় করা হয়। নানান জাতের তরকারির সাথে কুমড়া বড়ি রান্না করলে খাবারে এনে দেয় ভিন্ন রকমের স্বাদ।
 
বিশেষ করে গ্রামীণ নারীরা বসে না থেকে সংসারের বাড়তি আয়ের জন্য কুমড়া বড়ি তৈরি করে থাকেন। এখানে পুরুষদের কোন সহযোগীতা ছাড়াই শুধু নারীরাই এ কাজ করেন বলে জানা যায়। আর এসব কুমড়া বড়ি বিশেষ করে জয়পুরহাট, পাঁচবিবি, ঠাকুরগাঁ, দিনাজপুর ও ঢাকাসহ কয়েকটি জেলার পাইকাররা এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। অল্প পুঁজিতে কিছুটা লাভ হওয়ায় কুমড়া বড়ির সাথে সম্পৃক্ত প্রান্তিক পর্যায়ে গ্রামীণ নারীরা অর্থনীতিতে বেশ অবদান রাখছে।
 
নওগাঁ শহরের সুলতানপুর মহল্লার শিখা শাহা বলেন, কুমড়া বড়ির আট কেজি কাঁচামাল তৈরীতে প্রায় ৮০০ টাকা খরচ। আর শুকিয়ে পাওয়া যায় ছয় কেজি কুমড়া বড়ি। প্রতিকেজি কুমড়া বড়ি ২০০-২৫০ টাকা কেজি পাইকারী বিক্রি হয়। আর লাভ থাকে প্রায় ৪০০ টাকা। তবে আবহাওয়া একটু খারাপ হলে কুমড়া বড়ির রং হলুদ ও কালচে হয়ে যায়। অনেক সময় লোকসান গুনতে হয়।
 
এছাড়া সুলতানপুর মহল্লার শ্যামলী, রাণী মোহন্ত, বানী রাণী শাহা, বেলী রাণী দাসসহ কয়েকজন বলেন, সেই ভোর থেকে বেলা ১০-১১টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। ৩-৪ চারদিন ধরে শুকাতে হয়। যে হারে পরিশ্রম হয়, সে তুলনায় দাম পাওয়া যায় না। তবে যা পাওয়া যায় তা দিয়ে স্বচ্ছলতার সাথে চলা যায়। আর সাংসারিক কাজের পাশাপাশি এ কাজ করা হয়। এ এলাকায় প্রায় দেড়শ ঘর কুমড়া বড়ি তৈরীর সাথে সম্পৃক্ত।
 
তবে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এসব গ্রামীণ নারীরা নিজেদের ভাগ্য উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
 
ইত্তেফাক/এএম।