জন্মগতভাবে দুহাত অচল হলেও পা দিয়েই লেখা-পড়া চালিয়ে যাচ্ছে হাবিবুর রহমান। প্রতিবন্ধীত্ব তাকে হার মানাতে পারেনি। তাই সে এবার সব বাধা উপেক্ষা করেই নিয়মিতভাবে জিএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে।
হাবিবুর রহমান কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের হেমায়েতখালী গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদের ছেলে। এবছর পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের পুঁইজোর ফাজিল ডিগ্রী মাদরাসা থেকে জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এর আগে সে একই মাদরাসা থেকে পিএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৪.৬৭ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।
IMG0
শনিবার শহরের পাংশা সিদ্দিকিয়া ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, হাবিবুর রহমান বেঞ্চে বসে পা দিয়ে লিখে পরীক্ষা দিচ্ছে। দুহাত ছাড়ায় পা দিয়েই প্রশ্ন পত্র, খাতায় মারজিন টানা ও পাতা উল্টানো, পরীক্ষার খাতা ঠিকমতো গুছিয়ে রাখাসহ অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করতে হচ্ছে।
পুঁইজোর ফাজিল ডিগ্রী মাদরাসার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমান জানান, জন্মগতভাবেই হাবিবুরের দুই হাত অচল। দরিদ্র বাবা-মা অনেক কষ্টের মাঝে তাকে মানুষের মত মানুষ করার চেষ্টা করছেন। স্কুলে হাবিবুরের শতভাগ উপস্থিত রয়েছে। লেখা-পড়ার প্রতি প্রবল ইচ্ছা শক্তি থাকায় পা দিয়েই লেখা-পড়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে হাবিবুর। হাবিবুরের এই অদম্য আগ্রহই তাকে সমাজের একটি উচ্চ আসনে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ইত্তেফাক/জামান
