সুন্দরগঞ্জে চুরির অপবাদে শিশুকে নির্যাতন

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৭, ২২:৫৭

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ১০ হাজার টাকা চুরির অপবাদে এক শিশুকে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতনের শিকার ওই শিশু উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের রামভদ্র কদমতলা গ্রামের এক মুরগীর খামারের কর্মচারী। তার নাম নয়ন (১২)।

এ ঘটনায় খামার মালিক কবির হোসেনসহ তার সহযোগী অপর তিনজনের নামে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। শিশুটির মা নুরজাহান বেওয়া বাদী হয়ে রবিবার একটি মামলা দায়ের করেছেন। সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আতিয়ার রহমান মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আসামিরা এখন পলাতক।

শিশু নয়নের মা নুরজাহান বেওয়ার অভিযোগ, বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারে অভাব অনটনের কারণে ৫/৬ মাস আগে খামারে কাজ নেয় তার ছেলে। খামার থেকে ১০ হাজার টাকা চুরি হয়েছে দাবী করে শনিবার সকাল থেকে দিনভর তার ছেলেকে আটকে রেখে জিঙ্গাসাবাদ করে খামারের মালিক কবির হোসেন। এরপর চুরির অপবাদে শনিবার সন্ধ্যায় খামারের পেছনে একটি গাছের সাথে দু’হাত বেঁধে নয়নকে মারপিট করে। এক পর্যায়ে শিশুটির ডানহাতের আঙ্গুলে পিন ঢুকিয়ে দেয় খামারের মালিক কবির ও তার লোকজন।

তিনি আরও জানান, মারপিট করার পর কবির হোসেনের উঠানে নয়নকে ফেলে রাখা হয়। পরে তিনি অসুস্থ ছেলে নয়নকে স্থানীয়দের সহায়তায় শনিবার রাতে উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

ছেলের ওপর এমন অত্যাচার-নির্যাতনকারীদের শাস্তির দাবী জানান মা নুরজাহান বেওয়া।
 
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইয়াকুব আলী মোড়ল বলেন, শিশুটির শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারাত্মক জখম ও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া নির্যাতনের ফলে শিশুটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

তিনি আরো জানান, তার চিকিৎসার জন্য সবধরণের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

রবিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে নির্যাতিত শিশুটির চিকিৎসার খোঁজখবর নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম গোলাম কিবরিয়া। তিনি বলেন, শিশু নির্যাতনসহ সব ধরণের নির্যাতনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আতিয়ার রহমান বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।

ইত্তেফাক/নূহু