প্রতিবন্ধী হয়েও মনের জোরে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের অঞ্জু। হাত ও পা অস্বাভাবিক হলেও এবারের জেএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করছে।
অঞ্জু জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। হাটু ও হাতের সাহায্যে সে হামাগুড়ি দিয়ে চলাফেরা করে। অঞ্জুর হাত-পা অস্বাভাবিক হওয়ায় দুশ্চিন্তার শেষ নেই পিতা ওহিদুল খান ও মা আছমা খাতুনের।
ওহিদুল খান ও আছমা দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে অঞ্জু দ্বিতীয়। ওহিদুল খানের একমাত্র সম্বল তিন শতাংশ জমির উপর একখানা ঘর। তিনি কৃষি কাজ করেন। পাঁচজনের সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন তিনি। এর মধ্যেই অঞ্জু চালিয়ে যাচ্ছেন লেখাপড়া। লক্ষ্মীনারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে জিপিএ-৩.৬৬ পেয়ে পাস করে অঞ্জু। এবার রাসিদা নবী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মধুখালী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে অঞ্জু।
অঞ্জু বলেন, ‘আমি একজন প্রতিবন্ধী হয়েও কোন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি না। হাত ও হাটুর উপর ভর দিয়ে কষ্ট করে চলাচলা করি। হাতে বেশ চাপ লাগে। সে কারণে লিখতে কষ্ট হয়। প্রতিবন্ধী হিসেবে অনেকেই আধা ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় নিয়ে লিখছেন। আমি ওই সময়টুকু পেলে আরো ভালভাবে পরীক্ষা দিতে পারবো।’
তবে অঞ্জুকে হামাগুড়ি দিয়ে মধুখালী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সিড়ি বেয়ে দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে পরীক্ষা দিতে হচ্ছিল দেখে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ ইকবাল হাসান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুৎফুন নাহারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিচ তলায় পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।
রাসিদা নবী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. তারিকুল ইসলাম জানান, মেয়েটি প্রতিবন্ধী হলেও হাত দিয়ে মোটামুটি লিখতে পারে। তাই বোর্ডের কোনো অনুমোদন চাইনি।
ইত্তেফাক/ইউবি
