পাবনায় ৫৯৫ চরমপন্থির আত্মসমর্পণ, অস্ত্র জমা

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৯, ২৩:০০

দেশের ১৪টি জেলা থেকে পূর্ববাংলা সর্বহারা, পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (লাল পতাকা), নিউ পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি ও কাদামাটি নামের ৪টি চরমপন্থি সংগঠনের ৫৯৫ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। এসময় তারা ৬৮টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৭৫টি দেশীয় অস্ত্র জমা দেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে পাবনার শহীদ অ্যাডভোকেট আমিনউদ্দিন স্টেডিয়ামে এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিভ্রান্ত হয়ে যারা চরমপন্থি সংগঠনে যোগ দিয়েছিলেন, তারা নিজেদের ভুল শুধরে নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়ে আত্মসমর্পণ করছেন। জলদস্যু, মাদক কারবারি ও চরমপন্থি সবাই একে একে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে আত্মসমর্পণ করছে। আমাদের পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর সঙ্গে ১০ বছর আগের বাহিনীর তুলনা করা চলবে না। এখন বাংলাদেশের আইনশৃংখলা বাহিনী অত্যন্ত দক্ষ। তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে পার পাওয়া যাবে না। সন্ত্রাসীদের পালানোর স্থান ফুরিয়ে এসেছে। তাই এখন সুনাগরিক হিসেবে জীবনযাপনের বিকল্প নেই। যে সকল চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করলেন তারা যেন স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর্থিক অনুদান দিয়েছেন। তাদের আইনী সহায়তার মাধ্যমে স্বাভাবিক সুন্দর জীবনের ব্যবস্থা করবে সরকার।               মন্ত্রী এসময় আরো বলেন, ১৯৯৯ সালেও আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২ হাজার চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছিলেন। কোনো কারণে যারা আজ আত্মসমর্পণ করতে পারেননি তাদেরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ রয়েছে। আমরা জেনেছি, পাবনার এই অনুষ্ঠানে যারা আত্মসমর্পণ করলেন তাদের মধ্যে অনেকেই শিক্ষিত। তাদের যোগ্যতা অনুসারে প্রধানমন্ত্রী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার নির্দেশনা দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে পুলিশের আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, জঙ্গি ও মাদক ব্যবসায়ী অনেকেই পুলিশের সহযোগিতায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন।  একসময় উগ্রপস্থা এমন একটা রাস্তা ছিল যেখানে ঢুকলে আজীবন সেই কুিসত জীবনে আটকে থাকতে হতো। কিন্তু শেখ হাসিনা সেই ধারা পরিবর্তন করেছেন। ভুল করে অন্ধকার জগতে ঢুকে পড়াদের তিনি আলোর পথে টেনে আনছেন। হাসিমুখে বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে বাকি জীবন কাটানোর ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন।

আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে নওগাঁ জেলার পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (লাল পতাকা) প্রধান আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আর্ট বাবু তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় চারু মজুমদারের আদর্শে সমাজ বিপ্লবের মাধ্যমে সুন্দর সমাজ গড়া সম্ভব ভেবেই চরমপন্থি সংগঠনে যোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু দলের আদর্শ, কথা ও কাজের মিল না থাকায় অন্ধকার জগতের বিশাল গর্তে পড়ে যাই। কিন্তু এখন শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাচ্ছি। মুখে কাপড় বেঁধে দিন-রাত আর অন্ধকারে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াতে হবে না ভাবতেই আনন্দে দুচোখ পানিতে ভেসে যাচ্ছে। যারা এখনো আসেনি তাদেরকে বলছি, ফিরে আসুন। আলোর জগত্ যে কত সুন্দর তা নিজের চোখে দেখুন।

পাবনা জেলার পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (লাল পতাকা) প্রধান ইকবাল শেখের স্ত্রী রত্না খাতুন তার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, তার স্বামী এ সংগঠন করায় পরিবার নিয়ে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। ছেলেমেয়েদের ভালো স্কুলে পড়াতে পারিনি। সবাই ঘৃণার চোখে তাকাতো। ভাবতে ভালো লাগছে যে, সেই দিনগুলোর অবসান হবে। পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বিপিএম, পিপিএম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।