নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বুল্লাই নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা বাঁশের নড়বড়ে সাঁকো। আর এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীসহ দিন রাত সাঁকোর ওপর দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করছে।
জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাস থাকা সত্বেও এখানে পাকা সেতু হচ্ছে না। ফলে স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার পুর্ব দিকে গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম দলিরাম গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম দলিরাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রণচন্ডি স্কুল এ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীরা ওই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে পার হচ্ছে।
স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ছাড়া গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের গাড়াগ্রাম পুরান টেপা, গ্রাড়াগ্রাম বাজার, পুর্ব দলিরাম, পশ্চিম দলিরাম ও রণচন্ডি ইউনিয়নের জুম্মাপাড়া, সোনাখুলি, অবিলের বাজার ও খামার গ্রাড়াগ্রামসহ প্রায় আট গ্রামের ২০ হাজার মানুষ তারা বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে।
রণচন্ডি স্কুল এ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরজিনা বেগম বলেন, গত বছর সাঁকোটি পার হতে গিয়ে আমি নদীতে পড়ে গিয়েছিলাম। আমি সাঁতার কাঁটতে পারি তাই সাঁতরে নদী থেকে উপরে উঠে এসেছিলাম। সাঁতার না জানলে আমার কি হত ভাবলে আমার গাঁ শিউরে উঠে।
পশ্চিম দলিরাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার বলে, সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যেতে আমাদের খুব ভয় হয়। আমরা স্কুল থেকে বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত মা বাবা খুব চিন্তায় থাকে।
পশ্চিম দলিরাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জোবেদা বেগম বলেন, শিশুু ও বয়স্ক মানুষের পারাপারের জন্য সাঁকোটি বেশি ঝুঁকিপুর্ণ হয়ে পড়েছে। অন্যের সহযোগিতা ছাড়া তারা সাঁকো পার হতে পারেন না।
তিনি আরো বলেন, আমি রংপুর থেকে বাসে এসে সোনাখুলি নেমে সেতু পার হয়ে স্কুলে যাই। সেতু ছাড়া বিকল্প দিক দিয়ে যেতে হলে আমাকে ৫ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হবে।
রণচন্ডি সোনাখুলি গ্রামের মুকুল হোসেন বলেন, গ্রামের মানুষ নিরুপায় হয়ে ব্যাক্তিগত উদ্যোগে ১০ বছর আগে নিজেরা চাঁদা তুলে ৫০ হাজার টাকা ব্যায় করে সাঁকোটি নির্মাণ করে। কিন্তু বাঁশ পচে যাওয়ায় প্রতিবছর আবার টাকা তুলে সংস্কার করতে হয়।
রণচন্ডি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোকলেছার রহমান বিমান বলেন, বুল্লাই নদীর উপর একটি ব্রিজ না থাকার কারনে দুই ইউনিয়নের ৮ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়ছে। তাছাড়া বুল্লাই নদীর ওই জায়গাটি গাড়াগ্রাম ইউনিয়নে অর্ধেক ও আমার ইউনিয়নে অর্ধেক তাই আমি ব্যাবস্থা নিতে না পেরে বিষয়টি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে অবগত করেছি।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম বলেন, বুল্লাই নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী। যাতে খুব তাড়াতাড়ি সেটি নির্মান করা হয় সে বিষয়ে আমি এমপির সাথে কথা বলবো।
ইত্তেফাক/নূহু
