চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমা বৃদ্ধির মাধ্যমে বন্দর তথা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। বন্দরের জলসীমা পূর্বের তুলনায় প্রায় ৬ গুণ বাড়ানো হয়েছে। ২০১১ সালে বন্দরের জলসীমা ধরা হয়েছিল ২৬৫ বর্গকিলোমিটার। গত ২৫ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে তা বাড়িয়ে ১৫শ বর্গকিলোমিটার করা হয়েছে। এর ফলে জলসীমার মধ্যে থাকা জাহাজ ও নৌযানসমূহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নৌ-পলিসি অনুযায়ী নৌ-নিরাপত্তাসহ সকল সুযোগ-সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে পোর্ট ডিউজ ও রিভার ডিউজসহ অন্যান্য চার্জ পাবে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর মাধ্যমে বন্দর প্রতিবছর বিশাল অঙ্কের আর্থিক লাভবান হবে। অন্যদিকে নির্দিষ্ট জলসীমায় অবৈধ জাহাজ বা নৌযান চলাচল বন্ধ করা যাবে।
জানা গেছে, নতুন জলসীমা নির্ধারণের ফলে কুতুবদিয়া, মাতারবাড়ি, সীতাকুণ্ড, মীরসরাই এলাকা পর্যন্ত জলসীমা চট্টগ্রাম বন্দরের নৌ-নিরাপত্তার অধীনে আসবে। এর আগে ২৬৫ বর্গকিলোমিটার জলসীমার বাইরে অপেক্ষমাণ জাহাজ ও নৌযানসমূহের ব্যাপারে চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো দায়দায়িত্ব ছিল না। তাছাড়া বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পণ্যবাহী জাহাজসমূহ বাংলাদেশ জলসীমায় পৌঁছালেও স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক নৌসুবিধা পেত না। নতুনভাবে জলসীমা বৃদ্ধির ফলে চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখী জাহাজসমূহ সকল ধরনের সুবিধা পাবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বর্ধিত জলসীমায় তাদের করণীয় ঠিক করতে গত সপ্তাহে বন্দর ভবনে এক বৈঠকের আয়োজন করে। বৈঠকে বন্দরের সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ তাদের নিজ নিজ বিভাগের দায়িত্ব তুলে ধরেন। বর্ধিত জলসীমায় কনজারভেন্সি, নিরাপত্তা, হাইড্রোগ্রাফিসহ পোর্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিতকরণ, কার্গো হ্যান্ডলিং এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নৌ-পলিসি নিয়ে আলোচনা করা হয়। তাছাড়া আগত জাহাজসমূহের পোর্ট ডিউজ প্রদান সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়।
বন্দর সূত্র জানায়, সম্প্রসারিত জলসীমায় জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য পেট্রোল বোট, হেলিকপ্টার, তল্লাশি ও উদ্ধার জাহাজ সংগ্রহের কার্যক্রম চলছে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক নৌবন্দর নিরাপত্তা কোড অনুযায়ী নিরাপত্তা ঝুঁকি নিরূপণ ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বন্দরের পরিচালক (পরিবহন) এর পক্ষ থেকে সম্প্রসারিত বন্দর সীমায় যাতায়াতকারী জাহাজের একটি পরিসংখ্যান সংরক্ষণ করার কথা বলা হয়েছে। এতে করে অবৈধ জাহাজের অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
বন্দরের ডেপুটি কনজারভেটর জানান, নিরাপদে জাহাজ চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক মুরিং বয়া স্থাপন করা হবে। সম্প্রসারিত এলাকায় ভ্যাসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ভিটিএমএস) স্থাপন করা হবে। এটা কুতুবদিয়া এলাকায় স্থাপন করা হবে। তাছাড়া বর্ধিত বন্দর সীমায় ড্রেজিংসহ বিবিধ পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
