পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাঠদান

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৭, ০৩:৪৫

একতলা ভবনের ওপরে ছাদ আর ছাদের নিচে পলিথিন টাঙিয়ে চালাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের পাঠদান! কখনো ধসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা আবার কখনো ইট-পাথর। সামান্য বৃষ্টিতে ছাদ ভেদ করে পানি পড়ে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে দীর্ঘদিন ধরে পাঠদানের কার্যক্রম চলে আসছে চান্দিনা উপজেলার বরকরই ইউনিয়নের লনাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ৯০-এর দশকে সারাদেশে যে সকল বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে উঠে তারমধ্যে চান্দিনা উপজেলার লনাই গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ও একটি। ২০১৩ সালে সরকার সারাদেশের ২৬ হাজার রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করায় ওই বিদ্যালয়টিও সেই তালিকায় স্থান পায়। রেজিস্টার্ড বিদ্যালয় থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হলেও বিদ্যালয়টিতে গড়ে উঠেনি কোনো সরকারি ভবন। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠালগ্নে যে একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল সেই ভবনটি দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছরের বেশি সময় যাবত্ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে।

এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রূপান্তরের পর ওই বিদ্যালয়ে অনেক বর্তমানে পাঁচজন শিক্ষকের বিপরীতে ১৮৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর ও উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে গত ৭ বছর পূর্বে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও প্রায় দুইশ শিক্ষার্থীর পাঠদানের স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পলিথিন টাঙিয়ে চলছে পাঠদান।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন ভূইয়া জানান, ১৯৯৪ সালে পুরাতন ওই ভবনটি নির্মিত হয়। নির্মাণের ১০/১২ বছর পর থেকেই ভবনের পলেস্তারা ধসে পড়া শুরু হলে ২০১০ সালে ওই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে সরকারি বরাদ্দ পেয়ে দুই কক্ষ বিশিষ্ট দো-চালা টিনের ঘর এবং দুই বছরের শ্লিপির টাকায় আরো একটি টিনের ঘর নির্মাণ করা হলেও সেখানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান সংকুলান হয় না। তাই স্থানীয়দের পরামর্শে বাধ্য হয়ে ওই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই পাঠদান চালাচ্ছি।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান মোটেও উচিত নয়। ওই ভবনটির স্থানে চারতলা ফাউন্ডেশনের পাঁচ কক্ষ বিশিষ্ট নতুন ভবনের বরাদ্দ এসেছে। আগামী ৫-৬ মাসের মধ্যেই নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।

ইত্তেফাক/নূহু