পাহাড় কেটে বানানো হচ্ছে বসতি

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৭, ২৩:৩৩

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ১নং দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডস্থ সন্দ্বীপ কলোনিতে সরকারি পাহাড় বিক্রির ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন প্রকাশ্য দিবালোকে পাহাড়ের পাদদেশ ও  চুঁড়া কেটে বানানো হচ্ছে অবৈধ বসতি। ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে অন্তত তিনশত পরিবার।

পাহাড়ে বেড়ে উঠা মূল্যবান গাছ কেটে দিনদুপুরে পাচার করছে দুর্বৃত্তরা। বিভিন্ন সময় পাহাড় কাটতে গিয়ে মাটিতে চাপা পড়ে ও পাহাড় ধসে মারা গেছে অন্তত ১০জন। লাগামহীম পাহাড় কাটা ও জ্যামিতিক হারে অবৈধ বসতি স্থাপন বন্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে কারণে এখানকার পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

জানা যায়, সন্দ্বীপ কলোণিতে রয়েছে সন্দ্বীপ কলোণি, হাতিয়া কলোণি, আমতলি, বাইল্যাছড়ি, পুলেরগোড়া, তালতলি ও আদর্শপাড়া। পাহাড় ঘেরা ৫শত একর বিশিষ্ট সন্দ্বীপ কলোণি এলাকায় রয়েছে ১২ থেকে ১৩টি পাহাড়। এর মধ্যে ব্যক্তি মালিকানায় প্রায় ৩শত একর, বাকিগুলো সরকারি খাস খতিয়ানভূক্ত।

১৯৭৩ সালের দিকে দক্ষিণ হাতিয়ার কূলভাঙ্গা ১৫ থেকে ২০ পরিবার সর্বপ্রথম এ এলাকায় বসতি শুরু করে। পাহাড় সংলগ্ন অসংখ্য টিলা থাকলেও বসতি বেড়ে বর্তমানে টিলা ও পাহাড় দখল করে এসব এলাকায় প্রায় ৩হাজার পরিবারের অন্তত পনের হাজার মানুষ বাস করছে। সমতল ভূমিতে সময়ের সাথে জায়গার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব পাহাড়ের দখল স্বত্ব বিক্রির ব্যবসা বেশ জমে উঠেছে। প্রতি ২শতক জায়গা বিক্রি হচ্ছে ২০ হাজার থেকে ৫০হাজার টাকায়। পাহাড়ের দখল স্বত্ব বিক্রির সাথে জড়িতদের মধ্যে রয়েছে সুমন, ভুট্টো, হাসান, মিজান, শুক্কুর, মোশারফসহ আরো বেশ কয়েকজন। স্ট্যাম্পমূলে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন দলিল পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেখানে সুমন এর ভাই মোহাম্মদ নিজাম বিভিন্ন জনের নিকট “পাহাড় ভূমি দখল হস্তান্তর দলিল” নামে পাহাড়ের অংশ বিক্রি করেছেন যার অধিকাংশ ৪০ হাজার, ৫০হাজার কিংবা ৬০হাজার টাকায়।

সরেজমিন সন্দ্বীপ কলোনির বিভিন্ন পাহাড় ঘুরে দেখা যায়, বাইল্যাছড়িতে পাহাড়ের গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। পাহাড় কেটে তৈরি করা হচ্ছে নতুন রাস্তা ও কাঁচাঘর। এসব ঘর কিনে বসবাস করছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষ।

মাওলানা কেফায়ত উল্লাহ নামে এক ব্যক্তি পাহাড় কাটাবস্থায় সাংবাদিকদের দেখতে পেয়ে দ্রুত সঠকে পড়ে। আদর্শ পাড়ায় গিয়ে দেখা যায় পাহাড় থেকে অন্তত দেড় শতাধিক গাছ কেটে স্তুপাকারে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। অন্য একটি পাহাড়ে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে সাবাড় করছে কিছু কিশোর ও যুবক। তাদের প্রায় সবার সাথে কথা বলে জানা গেছে তারা সুমন গং থেকে পাহাড়ের অংশ ক্রয় করে গৃহ নির্মাণ করছে।

কৃষক বোরহান উদ্দিন(৪৫) বলেন, ৪শতক পাহাড়ের দখল কিনে একবছর পূর্বে বসতি স্থাপন করে বসবাস করছেন। একটি বেসরকারী কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি সাফায়েত ৪শতক জায়গা কিনে ঘর তৈরি করে বসবাস করছেন।

পাহাড় বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে সুমন বলেন, আমি ও আমার ভাইদের ৪৯একর পাহাড় রয়েছে। আমরা এগুলো ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করি। তারা ক্রয় করে কি করছে তা আমাদের দেখার বিষয় নয়। তারা পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন করলে এর দায় আমাদের নয়।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, সন্দ্বীপ কলোণিতে পাহাড়ের গাছ ও পাহাড় কেটে অবৈধ বসতি স্থাপন অব্যাহত রয়েছে। সুমন গং ও একটি প্রভাবশালী মহল এসব অবৈধ কাজের সাথে জড়িত। তারা প্রতি ৪শতক পাহাড় ২০ থেকে সর্বোচ্চ এক লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের সাথে অপরাধীরাও সন্দ্বীপ কলোণির এসব জায়গা কিনে বসবাস অব্যাহত রেখেছে।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শেখ মো. নাজমুল হুদা দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, ব্যক্তি মালিকানাধীন হোক কিংবা সরকারি-বৈধ অনুমতি ছাড়া কোনক্রমেই পাহাড়ের গাছ ও পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন করা যাবে না। শীঘ্রই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসব অবৈধ কাজের সাথে জড়িতদের ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

ইত্তেফাক/নূহু