হাটহাজারীতে ঐতিহ্যবাহী চাল জিলাপির চাহিদা বেড়েছে

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৭, ০৮:৫১
 
উত্তর চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ঐতিহ্যবাহী চালের তৈরি জিলাপির চাহিদা ও কদর উভয়টা বেড়েছে। ব্যতিক্রমী মচমচে আর সুস্বাদু এ জিলাপি এখানকার ঘরে ঘরে বেশ জনপ্রিয়। সদূর প্রাচীনকাল থেকে শীতকালে হাটহাজারীর গ্রামাঞ্চলে মহিলারা চালের তৈরি জিলাপি ঘরোয়াভাবে তৈরি ও পরিবেশন করত। শীত মৌসুমে ধর্মীয় সম্মেলন ও মাহফিলকে ঘিরে বসা বিভিন্ন মেলায় বিক্রি হয়ে আসছে হাটহাজারীর ঐতিহ্যবাহী চালের তৈরি জিলাপি। তবে প্রায় একযুগ ধরে এ জিলাপি এখন হাটহাজারী উপজেলার বেশ কয়েকটি হাটবাজারে তৈরি ও বিকিকিনি বেশ জমে উঠেছে। প্রতিদিন উপজেলার ছয়টি বাজারে প্রতি কেজি ১২০ টাকা হারে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কেজি চালের তৈরি জিলাপি বিক্রি হচ্ছে।
 
উপজেলার মধ্যে চৌধুরীহাটে ১জন, সরকারহাট বাজারে ৩জন, মনিয়া পুকুর পাড়ে ৩জন ও হাটহাজারী বাজারে ৬জন ও কাটিরহাট বাজারে ১জন সহ মোট ১৪জন চাল জিলাপি তৈরির কারিগর সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চালের জিলাপি তৈরি ও বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। শীতের আগমনের সাথে চাল জিলাপির যথেষ্ট চাহিদা ও মোটামুটি অল্প পরিশ্রম এবং পুঁজি খাটিয়ে বেশ ভালো আয় হয়ে থাকে বলে হাটহাজারীর মৌসুমী ফল বিক্রেতারাই মূলত চাল জিলাপি তৈরিতে ঝুঁকে পড়েছেন। চাল জিলাপির উপকরণ হচ্ছে চালের গুঁড়া ও গুড়ের তৈরি মিঠাই। গরম পানি দিয়ে চালের গুঁড়ার পেস্ট তৈরি করা হয়। একটি কাপড়ে সে পেস্ট রেখে বিশেষভাবে ঘুরিয়ে চক্রাকারে ফুটন্ত তেলের উপর দিয়ে ওই জিলাপি তৈরি করা হয়। জিলাপির রং লালছে হয়ে আসলে তা গুড়ের তৈরি মিঠাতে ঢেলে দেওয়া হয়। প্রতিটি জিলাপির ওজন হয় প্রায় এক কেজি। গত বছর জিলাপির কেজি ছিল ১০০ টাকা। তবে এবার জিনিসপত্রের দাম বাড়ার অজুহাতে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০টাকায়।
 
সরেজমিন সরকারহাট বাজার এলাকায় চালের জিলাপি তৈরিকারক মো. মাহাবুব, মো. আবুল হোসেন, মো. মহিন উদ্দিন ও হাটহাজারী বাসস্টেশন এলাকার করিম, ইউসুফ, মঞ্জু, আজমের সাথে কথা হলে তারা জানান প্রতিদিন গড়ে আড়াই থেকে তিন শতাধিক কেজি চাল জিলাপি তৈরি ও বিক্রি করেন। ভোক্তাদের চাহিদা বেশি হওয়ায় বানিয়ে কূল পাচ্ছেনা তারা। সরকারহাটের জিলাপি তৈরিকারক মো. আবুল হোসেন জানান, তিনি প্রতিদিন অন্তত দুই শতাধিক কেজি চালের জিলাপি বিক্রি করে থাকেন। সকাল ৯টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত তিনি চাল জিলাপি তৈরি ও বিক্রি করেন। এ কাজে তাকে ৩জন স্টাফ সহযোগিতা করে। প্রতিদিন দেড়শত কেজি চালের গুঁড়া, প্রায় ৭০ কেজি গুড়, জ্বালানি হিসেবে ৮০ কেজি কেরোসিন, ৮০ কেজি সয়াবিন তেল ব্যবহার করেন। স্টাফদের বেতন ও সার্বিক খরচ বাদ দিয়ে তার মোটামুটি হাজার দু’য়েক টাকা রোজগার হয়। তিনি বলেন, ‘দশ বছর ধরে সরকারহাট বাজারে জিলাপি তৈরি করে বিক্রি করে আসছি।‘যতক্ষণ বানানো যাচ্ছে, ততক্ষণই দেদার বিক্রি হচ্ছে।’
 
ক্রেতা মো. আবু তৈয়ব বলেন, হাটহাজারী চালের জিলাপি এ এলাকার একটি ঐতিহ্যবাহী শীতকালিন খাবার। মচমচে, সুস্বাধু এ জিলাপি খেতে বেশ মজা ও পরিবারের সবাই বলতে গেলে বাচ্চারাও এটি খুব পছন্দ করে। তাই সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার পরিবারের জন্য চাল জিলাপি কিনে থাকি।
 

ইত্তেফাক/এএম।