এলার্জি সমস্যায় করণীয়

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৭, ০৯:১৮
 
অনেকের ধারণা, চর্মরোগ মানেই এলার্জি। অথচ হাজারো চর্মরোগের মধ্যে এলার্জি হচ্ছে শুধু এক ধরনের রোগ। এলার্জি শব্দটি সকলের কাছে অতি পরিচিত হওয়া সত্ত্বেও এ নিয়ে ভুল ধারণার শেষ নেই।
 
কখনো কখনো ক্ষতিকর নয় এমন অনেক ধরনের বস্তুকেও ক্ষতিকর ভেবে আমাদের শরীর প্রতিরোধের চেষ্টা করে। সাধারণত ক্ষতিকর নয় এমন সব বস্তুর প্রতি শরীরের এ অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াকে এলার্জি বলা হয়। সাধারণত এলার্জি হলে হঠাত্ শরীরে দানা ওঠা শুরু হয় বা শরীরে বিভিন্ন স্থানের ত্বক লাল চাকা চাকা হয়ে ফুলে যায় এবং সেই সঙ্গে প্রচণ্ড চুলকানি থাকতে পারে। অনেক সময় সারা শরীরও ফুলে যায় এবং শ্বাসকষ্ট, বমি, মাথা ব্যথা, পেট ব্যথা, অস্থিসন্ধি ব্যথা, পাতলা পায়খানা ইত্যাদি হয়। এমনকি হঠাত্ কোনো তীব্র এলার্জিক রিয়েকশনে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।
 
এলার্জির কোনো নির্দিষ্ট কারণ নেই। পৃথিবীর সব জিনিসই এলার্জির কারণ হতে পারে। একেকজনের দেহ ও ত্বক একেক ধরনের জিনিসের প্রতি এলার্জিক হয়ে থাকে। যে কোনো খাদ্য দ্রব্য, পরিধেয় ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র, প্রসাধনী সামগ্রী, মশা-মাছি ও পোকা-মাকড়ের কামড়, পারিপার্শ্বিক ধুলা-বালি, আবহাওয়া, সূর্যালোক, কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ, কৃমি, আঘাত, এমনকি দুশ্চিন্তাতেও এলার্জি হতে পারে। যাদের বংশে হাঁপানি, একজিমা বা এলার্জির সমস্যা আছে তাদের এলার্জির প্রবণতা তুলনামূলক অন্যদের তুলনায় বেশি।
 
এলার্জির প্রাথমিক ও তাত্ক্ষণিক চিকিত্সা হিসেবে ওরাল, টপিকাল অথবা ইনজেক্টেবল এন্টিহিসটামিন বা অনেক সময় স্টেরয়েড দেওয়া হয়। তবে সঠিক ও উপযুক্ত চিকিত্সার পূর্বশর্ত এলার্জি সৃষ্টিকারী কারণটি খুঁজে বের করতে হবে এবং যথাসম্ভব তা এড়িয়ে চলতে হবে। এলার্জিক জিনিসের সংস্পর্শে না আসলে, অনেক ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে শরীরের সংবেদনশীলতা কমে গিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় চলে আসে। তবে চিকিত্সকের উপদেশ ও ওষুধপত্রের মাধ্যমে যে কোনো এলার্জির রোগী সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। পাশাপাশি এলার্জি হয়- এমন সব খাবার যেমন: চিংড়ি, ইলিশ মাছ, গরুর মাংস, ডিম, বেগুন ইত্যাদি খাবার পরিহার করতে হবে।
 
লেখক: ডা. সঞ্চিতা বর্মন, ত্বক, লেজার এন্ড এসথেটিক বিশেষজ্ঞ
 
ইত্তেফাক/আনিসুর