সোমেশ্বরী নদীতে ৪৬ বছরেও নির্মাণ হয়নি রাবার ড্যাম

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৭, ০০:২২

ঝিনাইগাতীর সোমেশ্বরী নদীর বালিজুড়ীতে ৪৬ বছরেও নির্মাণ হয়নি রাবার ড্যাম। এখানে কৃষকদের একটি রাবার ড্যাম নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। দেশ স্বাধীনের পর থেকে বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে আশ্বাসও পাওয়া গেলেও সে আশ্বাস আজো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে সেচ সংকটে দুই উপজেলার হাজারো কৃষক। ভারতে উত্সস্থল সোমেশ্বরী নদীটি শ্রীবরদী উপজেলার খারামোড়া ও বালিজুড়ী হয়ে ঝিনাইগাতীতে প্রবেশ করেছে। প্রবেশ দ্বার শ্রীবরদীতে হলেও পুরো নদীর বিস্তৃত ঝিনাইগাতী উপজেলায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ নদীর পানি সেচ কাজে ব্যবহার করে উপজেলার প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক দুই হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষাবাদ করে থাকে। তাদের জীবিকানির্বাহের একমাত্র উত্স বোরো আবাদ। বর্ষা মৌসুমে এ নদীতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে এসব কৃষকরা আমন আবাদ করতে পারে না। তাই তাদের একমাত্র ভরসা বোরো চাষাবাদ। কিন্তু সোমেশ্বরী নদীর উজানে বালিজুড়ীতে স্থানীয় প্রভাবশালীরা প্রতি বছর নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে পানির প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। এতে সেচ সংকটে পড়েন উপজেলার প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক। ব্যাহত হয় বোরো আবাদ।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে জানা গেছে, সোমেশ্বরী নদীর বালিজুড়ীতে যে বাঁধটি নির্মাণ করা হয় ওই বাঁধের পানিতে উপজেলার অর্ধশতাধিক কৃষক বোরো আবাদ করে থাকে। ওই অর্ধশতাধিক কৃষকের সেচ সংকট মেটাতে গিয়ে ভাটি এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার কৃষকের সেচ সংকট সৃষ্টি করা হয়। এ সেচ সংকট সমাধানের লক্ষ্যে দুই উপজেলার কৃষক থেকে শুরু করে প্রশাসনিকভাবে শুরু হয় দেন-দরবার। অনেক সময় দাঙ্গা-হাঙ্গামার সৃষ্টি হয়ে মামলা-মোকাদ্দমায় রুপ নেয়।

জানা গেছে, চলতি মৌসুমেও সোমেশ্বরী নদীর বালিজুরী কাংশা, আয়নাপুরে কয়েকটি বাঁধ নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। ফলে ভাটি এলাকার কৃষকরা বোরো আবাদ ব্যাহত হবার আশঙ্কায় রয়েছেন। কৃষক ও কৃষি বিভাগের মতে সোমেশ্বরী নদীর উজানে বালিজুড়ীতে একটি রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হলে দুই উপজেলার কৃষকদের সেচ সংকট স্থায়ী সমাধান হবে। কিন্তু দীর্ঘ ৪৬ বছরেও এখানে নির্মিত হয়নি একটি রাবার ড্যাম। ২০০৪ সালে সোমেশ্বরী নদীর আয়নাপুরে এলজিইডি’র উদ্যোগে চার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি রাবার ড্যাম নির্মাণ কাজ হাতে নেয় সরকার। কিন্তু রাবার ড্যামটি অপরিকল্পিতভাবে আয়নাপুরে নির্মাণ করা হয়। এতে নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে বিধ্বস্ত হয়ে সরকারের চার কোটি টাকা গচ্চা যায়। এ রাবার ড্যামটি বালিজুরীতে নির্মাণ করা হলে স্থায়িত্ব লাভের পাশাপাশি কৃষকদের সেচ সংকটের স্থায়ী সমাধান হত।

এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য প্রকৌশলী আলহাজ একেএম ফজলুল হক বলেন, কৃষকদের দাবির প্রেক্ষিতে মহারশি নদীর নলকুড়ায় একটি রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হয়েছে। সোমেশ্বরী নদীর বার্িলজুরীসহ এ উপজেলায় আরও তিনটি রাবার ড্যাম নির্মাণের প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু