আসিয়ান সম্মেলনের খসড়া ঘোষণায় রোহিঙ্গা ইস্যু নেই

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৭, ০৯:৪৫
 
দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট- আসিয়ান সম্মেলনের প্রস্তাবিত খসড়া ঘোষণায় মিয়ানমারের রাখাইনে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের কথা উল্লেখ নেই। সম্মেলন শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা পাঠ করার কথা। ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনে মানবিক সহযোগিতার বিষয় উল্লেখ রয়েছে ঘোষণায়। একইভাবে মিয়ানমারের রাখাইনে নির্যাতিত জনগোষ্ঠীকে মানবিক সহযোগিতার কথা শুধু উল্লেখ করা হয়েছে। রাখাইনে সামরিক অভিযানের মুখে ছয় লক্ষাধিক রোহিঙ্গার বাংলাদেশে পালিয়ে আসার বিষয়ে কোনো বক্তব্য নেই।  ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর দিয়েছে।
 
আসিয়ান সম্মেলনের আয়োজক দেশ ও সভাপতি ফিলিপাইন গতকাল সোমবার খসড়াটি তৈরি করে। গতকাল ম্যানিলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নেতারা প্লেনারি অধিবেশনে বসে খসড়া চূড়ান্ত করেন। খসড়ায় রাখাইনের পরিস্থিতির কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি এবং রোহিঙ্গা শব্দও ব্যবহার করা হয়নি। মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি বিদেশি নেতাদের রোহিঙ্গা শব্দ ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
 
চলমান রোহিঙ্গা  সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে আসিয়ান সদস্য মালয়েশিয়া উদ্বেগ জানিয়ে আসছিল। তবে আসিয়ানের নীতি সদস্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা না বলার কারণে বিষয়টি সম্মেলনের আলোচ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। ফিলিপাইনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্তো রোমুলো জানান, আসিয়ান সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কোনো আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে না। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ফিলিপাইন প্রতিনিধি উইলনর পাপা জানান, আসিয়ান নেতারা সন্ত্রাসবাদ এবং শান্তি ও শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা করবেন; কিন্তু তারা অনেক বড় ইস্যু নিয়ে কথা না বলে এড়িয়ে যান।
 
এদিকে মিয়ানমারের কার্যত সরকার প্রধান ও স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি গতকাল আসিয়ান সম্মেলনের প্লেনারি অধিবেশনে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে রাখাইনে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের তিন সপ্তাহের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার।
 
মিয়ানমারের সংবাদ মাধ্যম ম্যানিলা বুলেটিন জানায়, আসিয়ান সম্মেলনের সভাপতিত্ব করা ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তের মুখপাত্র হ্যারি রক জুনিয়র জানান, সম্মেলনে মিয়ানমারের কাছে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এ সময়ে সু চি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের তিন সপ্তাহের মধ্যে রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর