কিশোরীকে ধর্ষণের পর ২০ টাকায় ঘটনা চাপা দেওয়ার চেষ্টা

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:৩৪

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার যমুনার চরাঞ্চল মানসিক প্রতিবন্ধী ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে আব্দুন রহিম নামের এক ব্যক্তি গণপিটুনির শিকার হয়েছে। তাকে পুলিশ পাহারায় দৌলতপুর উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুই সন্তানের জনক আব্দুর রহিম উপজেলার শিকদার পাড়া গ্রামের রহম আলী মোল্লার ছেলে।

ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বড় বোন জানান, তার বোন জন্মের পর থেকেই মানসিক প্রতিবন্ধী। মঙ্গলবার দুপুর ১ টার দিকে তার বোন প্রতিবেশী ফজর সেক এর বাড়িতে যায়। ওই বাড়িতে ফজর সেক এর শ্যালক আব্দুর রহিম তার বোনকে কৌশলে একটি ফাঁকা ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য আব্দুর রহিম তার বোনকে ২০ টাকা দেয়। এরপর তার বোন হাতে ২০ টাকা নিয়ে কান্নাকাটি করতে করতে বাড়িতে আসে।কান্নাকাটির কারণ ও হাতে ২০ টাকা কোথায় পেল জিজ্ঞাসা করলে তার বোন সব কিছু খুলে বলে। সন্ধ্যার দিকে বিষয়টি তার বাবাকে জানানো হয়। এরপর তার বাবা বিষয়টি স্থানীয় মাতবরসহ গ্রামের লোকজনের কাছে খুলে বলেন। গ্রামের লোকজন উত্তেজিত হয়ে আব্দুর রহিমকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে আসেন। গ্রামের লোকজনের সামনে আব্দুর রহিম ধর্ষণের ঘটনা শিকার করে। এরপর উত্তেজিত লোকজন আব্দুর রহিমকে গণপিটুনি দেন। পরে তার স্বজনরা তাকে দৌলতপুর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। 
 
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্দুর রহিম জানায়, তাকে গ্রামের লোকজন কেন মারধর করেছে সেটা সে জানে না। প্রতিবন্ধী ওই কিশোরীকে সে ধর্ষণ করেনি বলে করেছে।

আরও পড়ুন: সোনাগাজী থানার ওসি প্রত্যাহার, নুসরাতকে হত্যাচেষ্টার মামলা পিবিআইতে

দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সুনীল কুমার কর্মকার বলেন, ‘বুধবার সকালে ধর্ষণের ঘটনাটি শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এরপর নির্যাতনের শিকার কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। ওই মামলায় দৌলতপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আসামি আব্দুর রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিকে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে ধর্ষণের শিকার কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’ 

ইত্তেফাক/কেকে