দুজনকে গুমের অভিযোগে যশোর কোতোয়ালি থানার ৭ কর্মকর্তাসহ ১৬ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে দায়েরকৃত মামলা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার হয়েছে। সোমবার দুপুরে মামলা দায়েরের পর মঙ্গলবার সকালে আবেদন করে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন বাদী হিরা খাতুন। ছেলেকে অপহরণের পর দাবিকৃত ঘুষের টাকা না পেয়ে হত্যা ও গুমের অভিযোগে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের হয়েছিল। পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা প্রত্যাহার হওয়ায় এ নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনজীবীরা বলছেন, মামলা প্রত্যাহার প্রক্রিয়ায় আইনের লঙ্ঘন হয়েছে। এভাবে তড়িঘড়ি মামলা প্রত্যাহারে কোনো মহলের ভূমিকা থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের।
পুলিশের বিরুদ্ধে এ মামলার পরই গোটা যশোরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নানাভাবে মামলার বাদীসহ পরিবারের সদস্যদের চাপ ও হুমকি প্রদান শুরু হয়। একপর্যায়ে বুধবার সকালে হিরা খাতুন একই আইনজীবীর মাধ্যমে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতে মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই মামলা প্রত্যাহারে আদালত অঙ্গনেও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
হিরা খাতুনের আইনজীবী অজিত কুমার দাস জানান, বাদী নিজে এসে মামলাটি প্রত্যাহার করতে চান। বাদী আবেদনে লিখেছেন, আসামিদের সাথে মীমাংসা হওয়ায় এবং আসামিরা এ ঘটনার সাথে জড়িত না বুঝতে পেরে আমি এ মামলা চালাতে ইচ্ছুক নই। পরে বিচারক আবেদনটি গ্রহণ করেন।
এদিকে, যশোরের আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সদস্যরা বলছেন, কোনো মহলের প্রভাবের কারণেই মামলা প্রত্যাহার হয়েছে। তাছাড়া যে আদালত মামলা গ্রহণ করেছেন সেই আদালতই তদন্তে থাকা মামলা আইনগতভাবে প্রত্যাহার করতে পারেন না।
যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বাচ্চু বলেন, এই মামলায় যারা আসামি তারা অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ক্ষমতার অধিকারী। এজন্য এই প্রত্যাহার নিয়ে সন্দেহের উদ্রেক হচ্ছে। নিঃসন্দেহে বলা যায়, পেছন থেকে কিছু কাজ হয়েছে যার জন্যে এই মামলা প্রত্যাহার খুবই দ্রুততার সাথে হয়েছে।
মানবাধিকার উন্নয়ন উদ্যোগ ফাউন্ডেশন পরিচালক (তদন্ত) অ্যাড. আবুল কাশেম বলেন, যিনি মামলাটি করেছিলেন তিনি অসহায় স্বামী পরিত্যক্তা। এই মহিলার সন্তানকে আটকের পর সাক্ষাতের জন্য দেনদরবার ও খোঁজাখুঁজি শুরু করলে পুলিশ পাল্টা মামলা করে দাবি করে, পুলিশের কাস্টডি থেকে সে পালিয়ে গেছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সন্তানের সন্ধান না পাওয়ায় হিরা খাতুন মানবাধিকার উন্নয়ন উদ্যোগ ফাউন্ডেশনের শরনাপন্ন হয়। এর প্রেক্ষিতে মামলা দায়ের হলে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তভার প্রদান করে। ফলে মামলাটি তদন্তাধীন। আর ৩৬৪ ধারার মামলা দায়রা জজ ছাড়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিচার করতে পারেন না। এই অবস্থায় তদন্তাধীন মামলা এই আদালত থেকে কিভাবে প্রত্যাহার হলো তা বোধগম্য নয়। এছাড়া আমরা শুনতে পাচ্ছি, অসহায় ওই মহিলার ওপর অত্যাধিক চাপ প্রয়োগ করে মামলা প্রত্যাহার করানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআই
