বিপিএলে জুয়া ধরা নিয়ে খুন: হত্যাকারী কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার, রিমান্ডে

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৭, ১৯:৪৪
রাজধানীর বাড্ডায় ছুরিকাঘাতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নাসিম আহমেদ এমাজউদ্দিনের হত্যাকারী আসিফ শিকদারকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসিফ পুলিশকে জানিয়েছেন, ৫ নভেম্বর হত্যাকাণ্ডের আগের দিন কয়েকজন সঙ্গীসহ তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করে নাসিম। এর প্রতিশোধ নিতেই পরদিন তাকে হত্যা করা হয়। 
 
বুধবার দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা জানান পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মোস্তাক আহমেদ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসিফকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। 
 
মোস্তাক আহমেদ বলেন, ৫ নভেম্বর আসিফ ও নাসিমের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় নাসিম তার তিন বন্ধুকে নিয়ে আসিফকে মারধর করে। প্রতিশোধ নিতে ভোরে বাড়ির ফল কাটার ছুরি নিয়ে নাসিমকে হত্যার জন্য বের হয়। অবস্থান নেয় বাড্ডা পোস্ট অফিসের গলিতে। এ সময় নাসিম হেঁটে আসলে সে প্রথমে তার পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। প্রথম আঘাতের পর নাসিম আসিফকে জড়িয়ে ধরে। তখনই নাসিমের পিঠে আরেকটি ছুরির পোঁচ দেয় আসিফ। এরপর সে বাড্ডা থেকে গুদারাঘাটের দিকে পালিয়ে আসে। ফোন করে বাবাকে জানায়, নাসিমকে ছুরিকাঘাতের কথা। পরে কুমিল্লায় মায়ের বাড়িতে আত্মগোপনে থাকে। সেখান থেকেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। 
 
বিপিএল জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা কিনা জানতে চাইলে ডিসি মোস্তাক আহমেদ বলেন, বাকবিতণ্ডার কারণ এখনও সুনির্দিষ্ট নয়। এ বিষয়ে পুলিশ আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে। তাকে রিমান্ডে এনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ডিসি’র দাবি, বিপিএলকে ঘিরে পাড়া-মহল্লা ও গলির দোকানে জুয়া খেলার বিরুদ্ধে পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশ কাজ করছে। 
 
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসিফ শিকদারের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার তাকে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মাহমুদা আক্তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 
 
পুলিশ জানিয়েছে, গত ৬ তারিখ সকালে রাজধানীর বাড্ডার পোস্ট অফিসের গলির ৩৭৫ নম্বর দাগের ৪ নম্বর নিজ বাসার সামনে ছুরিকাঘাতে নিহত হয় নাসিম। সে মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। ৫ নভেম্বর বাড্ডায় একটি ফ্লেক্সিলোডের দোকানে বিপিএল ক্রিকেট ম্যাচ নিয়ে বাজি ধরাকে কেন্দ্র করে রমজান আলী, আসিফ শিকদার, রশিদ, শহীদুল ও রফিক নামে স্থানীয়দের সঙ্গে নাসিমের বাগ বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আসিফকে চড় মারেন নাসিম। এর প্রতিশোধ নিতে গত ৬ নভেম্বর সকালে নাসিমকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান আসিফ, রমজান, রশিদসহ অন্যরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর নাসিমকে মৃত ঘোষণা করা হয়। গ্রেফতার হওয়া আসিফের গ্রামের বাড়ি বরিশালে। বাড্ডা এলাকায় বাবা সবুর শিকদারের সঙ্গে থাকতেন আসিফ। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। তবে একসময় পড়াশোনা ছেড়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র (এসি) মেরামতের কাজ শুরু করেন। আসিফ এলাকায় মাদক ব্যবসায়ও জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
 
ইত্তেফাক/এমআই