নীলফামারীর জলঢাকায় দীর্ঘ ২২ বছরেও এমপিওভুক্ত হয়নি খচিমাদা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি। এ কারনে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়নের খচিমাদা গ্রামে ১৯৯৬ সালে ৫৮ শতক জমির ওপর খচিমাদা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। এরপর ১ জানুয়ারি ১৯৯৯ সালে পাঠদানের অনুমতি পায় এবং ১ জানুয়ারি ২০০২ সালে একাডেমিক স্বীকৃতি লাভ করে বিদ্যালয়টি।
এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার বিদ্যালয়টির দুই সহকারি শিক্ষক বিশ্বজিত রায় ও হারুন অর রশিদ রাসেল কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমরা দীর্ঘ ২২ বছর ধরে এমপিও না হওয়ায় বিনা বেতনে চাকরি করছি। এমপিও হবে এ আশা বুকে নিয়ে আমাদের জীবন শেষ করলাম। এখন নিজ সন্তানদের ভবিষ্যত অন্ধকারে ঠেলে দিয়ে অন্যের সন্তানদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছি। তাই আপনাদের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি, দ্রুত এ বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত করে আমাদের সন্তানদের সু শিক্ষায় শিক্ষিত করতে সহযোগিতা করুন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রী সুরেশ চন্দ্র রায় বলেন, দীর্ঘদিন বেতন ছাড়া চাকরি করার কি যে কষ্ট। তা যদি কেউ স্কুলে এসে শিক্ষক-কর্মচারীদের মুখের দিকে তাকাতো তাহলে বুঝতো আমরা কেমন আছি!
এ ব্যাপারে উক্ত বিদ্যালয়ের জমিদাতা ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সহকারি অধ্যাপক হামিদুল ইসলাম বলেন, এখান থেকে স্কুল একটু দূরে, তাই এলাকার বাচ্চাদের ভোগান্তির কথা ভেবে স্কুলটি স্থাপন করেছি। সেই থেকে ১জন প্রধান শিক্ষক, ৭জন সহকারি শিক্ষক, ১জন অফিস সহকারি, ১জন পিয়নসহ মোট ১০ জন শিক্ষক কর্মচারী দিয়ে নিয়মিত চলছে স্কুলটি। এমপিও ভুক্ত করনের আশা নিয়ে সেই থেকে প্রতি বছর পরীক্ষায় শতভাগ পাশসহ সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করে আসছে বিদ্যালয়টি। এ ছাড়াও বিদ্যালয়টিতে বড় সমস্যা ছিল ভবনের, কিন্তু বর্তমান স্থানীয় এমপির চেষ্টায়, সরকারের রাজস্ব ফান্ড থেকে ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যায়ে একটি ৪ তলা ফাউন্ডেশনে এক তলা ভবন করা হয়েছে।
এমপিও ভুক্ত করার বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার চঞ্চল কুমার ভৌমিক বলেন, শুধু খচিমাদা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি নয় সারাদেশে স্বীকৃতি প্রাপ্ত, নন এমপিওভুক্ত যে সব বিদ্যালয় আছে। সেই বিদ্যালয়গুলোকে সরকার এক সাথে এমপিওভুক্ত করার জন্য কাজ করছেন।
সম্প্রতি খচিমাদা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নব নির্মিত একাডেমিক ভবনটি উদ্বধন করেন, নীলফামারী ৩ আসনের এমপি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা। এ সময় এমপি পরবর্তিতে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত করারও ঘোষণা দেন। তিনি উক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, দীর্ঘ ২২টি বছর বেতন ছাড়াই চাকরি করছেন এবং এই এলাকার বাচ্চাদের পড়াচ্ছেন। এর জন্য এলাকাবাসী আপনাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আর কিছুদিন অপেক্ষা করুন এ সরকারের হাত দিয়েই আপনাদের আশা পূুরণ হবে ইনশাআল্লাহ।
ইত্তেফাক/নূহু
