বৈশাখে রঙিন তারকারা

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:০০

বাংলা সনের প্রথম দিন, তথা বাংলা নববর্ষ। বাংলা বর্ষ বরণের এই উত্সব আমাদের সংস্কৃতির অন্যতম ঐতিহ্য। বাঙালিদের সার্বজনীন একটি উত্সব। বিশ্বের সকল প্রান্তের বাঙালি এ দিনে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় একে অপরের প্রতি ভালোবাসা আর সম্প্রীতির বন্ধনে, ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করে অতীতের সব দুঃখ-গ্লানি। গ্রাম থেকে শুরু করে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এই উত্সবে অংশ নেয়। এতে পিছিয়ে নেই শোবিজ তারকারাও। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে শোবিজের কয়েকজন তারকার ভাবনা তুলে ধরেছেন ইমরুল নূর

ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর

বৈশাখ বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য ধারণ করে চলে আসছে অনেক বছর ধরে। এদিনটিতে ছোট থেকে বড় সবাই নতুন নতুন আশা আর উদ্দীপনা নিয়ে নতুন কিছু শুরু করে। নিজেকে নতুনভাবে সাজায়। আমার কাছে বৈশাখ মানেই আনন্দ, নতুন কিছুর সম্ভাবনা বা শুরু। ছোটবেলায় বৈশাখে অনেক মজা করতাম, ঘুরতাম, মেলায় যেতাম। কিন্তু এখন আর সেরকমভাবে করতে পারি না বা আগের আনন্দটা উপভোগ করতে পারি না। এবার বৈশাখ নিয়ে তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। এদিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যাসোসিয়েশনের একটি অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে কক্সবাজার থাকব।

 

ইমরান মাহমুদুল

বৈশাখ বলতে আমি বুঝি বাঙালির একটা ঐতিহ্য, যেটা সার্বজনীন। এদিন সবাই নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করে, রঙিন করে সাজায়। আমার কাছে ঈদ উত্সবের পর সবচেয়ে বড় উত্সব মনে হয় এই পহেলা বৈশাখকে। আমি তো গানের মানুষ, তাই দিনটিকে গান দিয়েই সাজাতে পছন্দ করি। যখন ছোট ছিলাম, তখন তো অনেক মজা করতাম, আনন্দ করতাম। এসময় স্টেজ প্রোগ্রাম থাকে তাই দর্শকদের ভালোবাসার টানে শোতে অংশগ্রহণ করি। তখন দর্শকদের আনন্দের মাঝেই নিজের আনন্দটা খুঁজে পাই। আর এই দিনটিতে বিশেষ করে নিজেকে একটু রঙিনভাবে সাজাতে পছন্দ করি। এবারের বৈশাখেও গান নিয়েই থাকব। সেদিন রাজশাহীতে শো করব। আর বৈশাখে আমার দর্শকদের জন্য নতুন গান থাকবে।

 

সিয়াম আহমেদ

পহেলা বৈশাখ বাঙালি জাতির জন্য একটি ঐতিহ্যবাহী দিন। দিনটিতে সবাই নিজেদের নতুনভাবে রাঙিয়ে তুলে। ছাত্রজীবনে বৈশাখের দিন অনেক অনেক আনন্দ করতাম। আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায়ী অনুষদ বিভাগে পড়াশোনা করতাম। তখন আমাদের ক্যাম্পাসে বৈশাখ নিয়ে উত্সব হতো, বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে দিনটি উদযাপন করতাম। কিন্তু এখন আর সেটা করতে পারি না। এখন কর্মজীবী হয়েছি! অফিস করছি, শুটিং করছি আর পরিবারকে সময় দিচ্ছি। এখন বৈশাখটা এভাবেই কেটে যায়। আর এখন তো পরিবার বড় হয়েছে, তাই এবারের বৈশাখ পরিবারের সঙ্গেই কাটাব। আমার স্ত্রী অবন্তীকে সময় দেব, তাকে নিয়ে ঘুরতে বের হবো। এদিন অন্য কোনো প্রোগ্রাম রাখব না। পুরো দিনটা শুধু পরিবারের জন্য থাকবে। ক্যাম্পাস লাইফের আনন্দটা এখন আর পাই না। আর যদিও পাই সেটা ভিন্ন। তখন সব বন্ধুরা মিলে কনসার্ট দেখতে যেতাম আনন্দ উল্লাস করতাম।

 

জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী

পহেলা বৈশাখ শুনলেই আমাদের সবারই কেমন যেন ‘এসো হে বৈশাখ’ গানটি কানে বাজে। গানটা একটা নতুন ও সতেজ শুরুর আহ্বান জানায়। পহেলা বৈশাখ বলতেও আমি তেমন সতেজ ও নতুন শুরু বুঝি। পহেলা বৈশাখ আমাদের হূদয়ের অনেক কাছের একটা উত্সব হলেও আমাদের দেশের পহেলা বৈশাখ উদযাপন করার অভিজ্ঞতা বা স্মৃতি খুব একটা সুখকর নয়। ছিনতাই, বোমা বিস্ফোরণ এমনকি প্রকাশ্যে ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটেছে এমন দিনে। হাজার হাজারর মানুষের কাছে পহেলা বৈশাখ যখন শুধু একটা দুঃস্বপ্নের স্মৃতিতে পরিণত হয়, তখন তাকে উত্সব হিসেবে পালন করতেও কষ্ট হয়। আমি চাই আর যেন এমন কোনো ঘটনা না ঘটে এমন একটি দিনে। শুধু এইদিন কেন, কোনোদিনই যেন না ঘটে। কারণ পহেলা বৈশাখ পালনের উদ্দেশ্য হলো নতুন করে শুরু করা। এই শুরুটা যেন হয় ভালো লাগার, ভালোবাসার, ভালো থাকার। বৈশাখ নিয়ে মজার কিছু সময় কাটিয়েছি স্কুলজীবনে।

 

তানহা তাসনিয়া

বৈশাখ বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। একটি উত্সবমুখর দিন। আমার কাছে বৈশাখ মানে আনন্দ। দিনটির মাধ্যমে সবাই একটা নতুন বছরকে স্বাগতম জানায়। বড় ছোট সবাই মিলে একটি উত্সবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে দিনটিকে উদযাপন করে। প্রতিবছরই এদিনে নিজেকে নতুন রঙে রাঙানোর চেষ্টা করি। একটা দিন একদম বাঙালিয়ানের মতো করে থাকতে। মাটির কাঁসাতে করে পান্তা ইলিশ খেয়ে দিনের শুরু করি। এরপর লাল পাড়ের সাদা শাড়ি, চুলে খোঁপা, কাচের চুড়ি ও কপালে টিপ পরে নিজেকে সাজাই। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দে দিনটি অতিবাহিত করি। ছোটবেলায় পহেলা বৈশাখ মানে মনে হতো রমনা পার্কে যেতে হবে। সকালবেলা সাজগোজ করে বাবার সঙ্গে রমনা পার্কে যেতাম, তারপর কনসার্ট দেখতে যেতাম। ওই সময়গুলো খুব আনন্দের ছিল। 

 

সাবিলা নূর

পহেলা বৈশাখ বরাবরই আমার কাছে বিশেষ একটি দিন। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গেই এদিনটা কেটে যায়। বাঙালি সংস্কৃতির হাজার বছরের পুরোনো একটি ঐতিহ্য। অনেকসময় আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে পুরো দিনটাই মাটি হয়ে যায় নয়তো একটি সুন্দর উত্সবমুখর পরিবেশে দিনটা উদযাপিত হয়। আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন অনেক আনন্দ করতাম। আমি তখন বাফাতে নাচ শিখতাম। পহেলা বৈশাখ এলে সেদিন তিন-চারটা প্রোগ্রাম থাকত আর সেখানে নাচতাম। খুব আনন্দ করতাম। কিন্তু এখন আর আগের মতো করে সময়টা এভাবে পালন করা হয় না। বের হলেও আশপাশে বন্ধুদের সঙ্গে একটু আড্ডা দিই। আর বৈশাখে নিজেকে শাড়িতেই বেশি মানানসই মনে করি। আর নয়তো এমন একটা লুক নিতে পছন্দ করি যেটা ট্র্যাডিশনাল ও কমফোর্টেবল।