বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর ১২ নম্বর বাস স্ট্যান্ডের কাছে ট্রাস্ট ট্রাউজার নামে একটি গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছে। রাস্তা আটকে বিক্ষোভ করার সময় একাধিক গাড়ি ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে। পরে পুলিশ এসে দুপুর নাগাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংকট সমাধানে শনিবার মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ট্রাস্ট ট্রাউজার নামে ওই কারখানাটিতে প্রায় ১২শ’ শ্রমিক কাজ করে। কারখানাটি প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় স্থানান্তর করতে চান মালিকপক্ষ। কিন্তু বেশিরভাগ শ্রমিক ওই এলাকায় গিয়ে কাজ করতে চান না। এ জন্য তারা তাদের সব পাওনা পরিশোধ করার দাবি জানায়। এ দাবিতে শুক্রবার কারখানাটি বন্ধের দিনে হঠাৎ করে শ্রমিকদের একটি অংশ কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। কিছু সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
আব্দুর রহিম নামে একজন শ্রমিক জানান, আমরা মোহাম্মদপুরে যেতে চাইনা। কারখানা সরানোর আগে আমাদের বকেয়া বেতনসহ সব পাওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। শুনেছি টাকা না দিয়েই মালিকপক্ষ গোপনে মেশিনপত্র সরানোর চেষ্টা করছে। এ জন্য বন্ধের দিনে আমরা এখানে এসেছি। তবে মালিকপক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। মালিকপক্ষের সংগঠন বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম মান্নান কচি ইত্তেফাককে বলেন, কারখানার মালিক আলী আজমের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। যে সব শ্রমিক মোহাম্মদপুরের কারখানায় যাবে না, তাদের সব পাওনা আইনানুগভাবে দিতে মালিকপক্ষ ইতিমধ্যেই সম্মত হয়েছে। এ বিষয়ে মালিক ও শ্রমিকের কথাও হয়েছে। শ্রমিকরা রাজি হওয়ার পর হঠাৎ করে শুক্রবার বন্ধের দিনে এ বিক্ষোভ কেন করল? পরিস্থিতি ঘোলাটে করে সুবিধা নিতে এর পেছনে কারও ইন্ধন রয়েছে বলেও দাবি তার। তবে শনিবার এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে উভয় পক্ষের বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ইত্তেফাক/এমআই
