রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শেষ বর্ষের অপহৃত শিক্ষার্থীর সাবেক স্বামী সন্দেহভাজন অপহরণকারী সোহেল রানার পিতা অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় নওগাঁর পত্মীতলার সরদার পাড়ার নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ তাকে আটক করে।
পত্নীতলা থানার ওসি মাজাহারুল ইসলাম বলেন, ওই শিক্ষার্থী অপহরণের ঘটনায় মতিহার থানায় দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে জয়নাল আবেদিনকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে আটক জয়নাল আবেদিন অপহৃত ছাত্রীর অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোহেল ও অপহৃত ওই ছাত্রী এখন ঢাকায় অবস্থান করছে বলেও জানিয়েছেন জয়নাল আবেদিন।
মতিহার থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, অপহরণের ঘটনায় ছাত্রীর বাবা ছয়জনকে আসামি করে মতিহার থানায় মামলা করেছেন। আমরা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছি। এখন পর্যন্ত ওই ছাত্রীর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ এ ব্যাপারে তৎপর রয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করতে পারবো।
শুক্রবার সকালে ক্যাম্পাস থেকে অপহৃত হন ওই ছাত্রী। স্নাতক (সম্মান) শেষ বর্ষের পরীক্ষা দেয়ার জন্য সকাল আটটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া হল থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। হলের ফটক থেকে ৫০ গজ দূরে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেসা মুজিব হলের সামনে আসতেই তাকে জোর করে একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নেয় কয়েকজন যুবক। এ ঘটনায় তাঁর সাবেক ‘স্বামী’ সোহেল রানা জড়িত বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, এক বছর আগে বিয়ে হলেও দুই মাস আগে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।
এদিকে, ছাত্রী অপহরণের ঘটনায় বিক্ষোভ ও আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠে ক্যাম্পাস। সহপাঠীকে ফেরত ও অপহরণকারীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবিতে শুক্রবার বিকেল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা ১৫ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে শুক্রবারের কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করে।
ইত্তেফাক/এএম।
