‘আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে, বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে’ —রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই ‘আমাদের ছোট নদী’ কবিতার সঙ্গে মিলে গেছে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার চিত্র। তবে তা বৈশাখে নয়, অগ্রহায়ণ মাসেই।
বর্ষা শেষ হতে না হতেই তিস্তায় এখন হাঁটু পানি। পায়ে হেঁটে পার হওয়া যায় তিস্তা নদী। কোথাও হাঁটু পানি, কোথাওবা কম। তিস্তা দিয়ে গাড়ি চলে। তিস্তার করুণ হাল। শুকনো মৌসুমে তিস্তা শুকিয়ে মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে।
পানি প্রবাহ কমেছে তিস্তায়। তিস্তা শুকিয়ে মরে গেছে। একেবারে ক্ষীণ হয়ে এসেছে। তিস্তার প্রস্থ এখন ২০ থেকে ২৫ ফুট। নৌপথ প্রায় বন্ধের পথে। পানির অভাবে ঘাট আজ এখানে তো কাল ওখানে সরিয়ে নিতে হচ্ছে।
তিস্তার চরে কাজ শেষে পায়ে হেঁটে নদী পার হয়ে আসছিলেন লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের মহিপুর গ্রামের হাফিজুল ইসলাম (৫২) ও তার স্ত্রী (৪৫)। এ সময় হাফিজুল ইসলাম জানান, তিস্তায় এখন হাঁটু পানি। পায়ে হেঁটে পার হাওয়া যায় সহজেই। প্রমত্তা তিস্তা ধীরে ধীরে মরে যাচ্ছে। কমে এসেছে পানি প্রবাহ। ক্ষীণ হয়ে এসেছে নদী। হ্রাস পেয়েছে নাব্যতা। শুষ্ক মৌসুমে জেগে ওঠেছে অসংখ্য চর-ডুব চর।
তিস্তার বুকজুড়ে এখন বালু আর বালু। দিগন্তজুড়ে সবুজের মাঠ। কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে চরে। কৃষকরা এখন আলু, তামাকসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ করছে। মাঠে মাঠে চলছে ফুটবল।
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ
