উত্তাল যমুনা এখন শান্ত। তবে কমেনি হিংস্রতা। ধরন পাল্টেছে মাত্র। পানি কমছে আর বড় বড় চাপ ধরে মাটি খসে পড়ছে রাক্ষুসে যমুনার পেটে। যমুনার ভাঙন ঠেকাতে নির্মাণ করা তীর সংরক্ষণ প্রকল্পও পাচ্ছে না রক্ষা।
শনিবার সকাল পর্যন্ত যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে বগুড়ার ধুনট উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামে নির্মাণকৃত ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের তিন স্থানে প্রায় ২০০ মিটার অংশ বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ৭০০ মিটার অংশই রয়েছে হুমকির মুখে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাঙনের কবলে পড়ে প্রত্যেক বছর যমুনা নদীর তীরবর্তী বসতভিটা ও ফসলি জমিসহ বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো বিলীন হয় যমুনার গর্ভে। বন্যার শুরু হতেই বাঁধের দিকে ধেয়ে আসতে থাকে সেই বানের পানি। এসব বিবেচনায় যমুনার ভাঙনরোধে ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ হাতে নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড।
প্রায় দুই বছর আগে যমুনার ভাঙন ঠেকাতে পুকুরিয়া গ্রামে ৭০০ মিটার কাজ করা হয়। যমুনা নদীর পাড় স্লোপ করে তার উপর জিও চট বিছানো হয়। এর উপর সিসি ব্লক প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ গুটিয়ে ফেলা হয়েছে। যমুনার ভাঙন রোধকল্পে কাজটি করা হয়। এতে ভাঙন কবলিত জনপদের মানুষ এক বুক আশা বাঁধেন। কিন্তু তাদের সেই আশায় চির ধরাতে যমুনা বেশি দিন সময় নেয়নি। কারণ যমুনার হিংস্রতায় তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। পানি কমার সাথে নদীর বুকে চর জেগে উঠেছে। এতে পানির গতীপথ পরিবর্তন হয়ে তীর সংরংক্ষন প্রকল্পে আঘাত হানছে। পানির প্রবল স্রোতে ঘূর্ণেবর্তের সৃষ্টি হয়ে প্রকল্পের কাজে ব্যবহার করা নানা ধরনের উপকরণ যমুনার গর্ভে বিলীন হতে থাকে। কয়েক দিনের ভাঙনে লন্ডভন্ড হতে থাকে সিসি ব্লক, জিও চটসহ নানা উপকরণ। ফলে শঙ্কায় পড়েছে যমুনা পাড়ের মানুষ।
উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানান, তীর সংরক্ষণ প্রকল্পটিকে রাখতে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। নইলে বর্ষা মৌসুমে পুরোটাই যমুনায় বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে চরম বিপদের মুখে পতিত হবেন যমুনার পাড়সহ আশেপাশের গ্রামের মানুষ।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, তীর সংরক্ষন প্রকল্পের ভাঙনের বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। বরাদ্দ সাপেক্ষে সংস্কার কাজ করা হবে। তবে আপাতত জরুরী ভাবে সংস্কার কোনো বরাদ্দ নেই।
ইত্তেফাক/এএম।
