রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে মার্কিন সিনেট প্রতিনিধি

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৭, ১৫:০০
 
উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পঘুরে রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বললেন মার্কিন সিনেট ও কংগ্রেস প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিনিধিদল বালুখালী পৌঁছালে সেখানে কর্মরত এনজিও সংস্থার উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের স্বাগত জানান।
 
এ সময় প্রতিনিধিদল সরাসরি বালুখালী ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের থাকা, খাওয়াসহ যাবতীয় বিষয়ে জানার জন্য রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলেন। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের সরকারের অত্যাচারে বাধ্য হয়ে পালিয়ে আসার কথা স্বীকার করে বলেন, বর্তমানে তারা বিভিন্ন সমস্যা ভুগছেন। বিশেষ করে পয়োনিস্কাশন, স্বাস্থ্য সেবা ও জ্বালানি সংকটের কথা তুলে ধরেন।
 
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে কথা বললে রোহিঙ্গারা বলেন, তাদেরকে মিয়ানমারে পূর্ণ নাগরিকত্ব দিয়ে বসবাসের সুযোগ করে দিতে হবে। তাদের চাষাবাদের পাঁকা ধান কেটে নিয়ে গেছে মগ সেনারা, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়ে নিঃস্ব করে দেয়া রোহিঙ্গাদের যাবতীয় ক্ষতিপূরণ দিতে হবে মিয়ানমার সরকারকে। মিয়ানমারের জেল খানায় হাজার হাজার নিরহ রোহিঙ্গা যুবকদের আটকিয়ে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নিয়ে অবিলম্বে ওই সব রোহিঙ্গা যুবকদের মুক্তি দিতে হবে।
 
এ সময় রোহিঙ্গারা বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে এপার ওপারে আসা যাওয়া করতে না পারে মিয়ানমার সেনারা সীমান্তের জিরো পয়েন্টে মাটির নিচে পুঁতে রেখেছে অসংখ্য স্থলমাইন। এসব রোহিঙ্গা মরণাস্ত্র মিয়ানমার সেনাদের তুলে নিতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে রোহিঙ্গাদের উপর এভাবে উত্পীড়ন, নিপীড়ন করা না হয় সে ব্যাপারে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করে রোহিঙ্গাদের উপর আরো প্রয়োগ করার অনুরোধ জানান। রোহিঙ্গারা চলমান সহিংসতা বন্ধ করে রাখাইন রাজ্যে পুন শান্তি প্রতিষ্টা করার উদ্যোগ গ্রহনের জন্য প্রতিনিধিদলের কাছে দাবী জানান। পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদলের মধ্যে ছিলেন সিনেটের সদস্য জেপ মার্ক লে, রি শার্ট ডারমি, ডেটি মেক লাম, বাংলাদেশ নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নি কাট ও কনগ্রেস সদস্য জেম সেকসকি  ও ডেভিড চিচিলিং, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান ও জিও, এনজিও সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
 
প্রতিনিধিদলের পক্ষে জেপ মার্ক লে দুপুর ১২টায় আইওএম পরিচালিত একটি স্কুলে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। ব্রিফিংকালে তিনি বলেন, আমরা রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সরজমিনে দেখেছি এবং তাদের বিভিন্ন নোমহর্ষক নির্যাতনের বর্ণনা শুনেছি। পরবর্তীতে মিয়ানমার সফর করে সিনেটের বৈঠকের রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের কথা উত্থাপন করা হবে জানিয়েছেন।
 
ইত্তেফাক/এএম।