ডুমুরিয়ায় মোবাইল ফোন চুরি সন্দেহে ঘুমান্ত শিশুকে তুলে নিয়ে রাতভর শারীরিক নির্যাতন করায় তার মা বাদী হয়ে শনিবার ৬জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। অসুস্থ শিশু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ডুমুরিয়া উপজেলার উলা গ্রামে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানান, উলা গ্রামের মালেক সরদারের ছেলে কুদ্দুস সরদার (১৩) উলা বাজারে একটি মোবাইল ফোনের দোকানে কাজ করত। একই বাজারে বাহারুল টেলিকমের দোকান থেকে বৃহস্পতিবার একটি মোবাইল হারিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিশু কুদ্দুসকে সন্দেহ করা হয়। এরপর রাতে কুদ্দুসকে উলা গ্রামের গোলজার সরদারের বাড়ি থেকে ঘুমান্ত অবস্থায় রাত দশটার দিকে বাহারুলসহ ৬/৭জনের একটি দল মোটরসাইকেলে করে শিশুটিকে তুলে নিয়ে উলা বাজারের বিভিন্নস্থানে রাতভর গাছে বেঁধে, পানিতে চুবিয়ে নির্যাতন চালায়। এক পর্যায়ে শুক্রবার ভোরে অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে মোটরসাইকেলে বহন করে তার বাড়ির সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় শিশুর বাবা মালেক সরদার (৪০) ও মা শাবানা বেগমকে (৩২) জানানো হয় তাদের ছেলে মোবাইল চুরি করেছে। শিশুকে রেখে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর সে জ্ঞান হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা তারা চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার মিলন কুমার দাস জানান, শিশুর গায়ে অসংখ্য জখম রয়েছে। তবে সে ঝুঁকিমুক্ত।
ডুমুরিয়া থানার ওসি হাবিল হোসেন বলেন, শনিবার দুপুরে শাবানা বেগম এলাকার রুহল মোল্যা (৩৫), সোহেল গাজী (২২), বাবুর আলী সরদার (৩৪), কবির সরদার (২৮), সোহেল মোল্যা (২৩) ও বাহারুল মোল্যা (৩৫) নাম উল্লেখসহ আরো অজ্ঞাত ২/৩জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এরমধ্যে রুহুল মোল্যা, কবির সরদার ও বাহারুল ইসলামকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
