পিয়াজ, আলু, পান ও মাছের ভাণ্ডার হিসাবে পরিচিতি লাভের পর বাগমারা এখন সবজির ভাণ্ডার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। এখানে উৎপদিত বিভিন্ন সবজি দামে তুলনামূলক সস্তা এবং মান সম্পন্ন হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেপারীরা ছুটে আসছেন সবজি কিনতে।
স্থানীয় কৃষক ও সবজি ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, প্রদিদিন এই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে অর্ধশত ট্রাকে করে প্রায় ৭শ’ থেকে হাজার টন সবজি ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজারে রপ্তানি হচ্ছে। রপ্তানীকৃত এসব সবজির মধ্যে রয়েছে বেগুন, মূলা, পটল, লাউ, বরবটি, ঢেড়শ, ফুলকপি, পেঁপে ও শসাসহ বিভিন্ন সবজি। উপজেলার তাহেরপুর, ভবানীগঞ্জ, মোহনগঞ্জ, মচমইল, হাটগাঙ্গোপাড়াসহ বেশ কিছু হাট থেকে প্রতিদিনই ট্রাক বোঝাই করে এসব সবজি রপ্তানি হচ্ছে দেশের বৃহত্তম দু’টি শহরে। এছাড়া ছোট ছোট যানবাহনে জেলা সদর রাজশাহী ছাড়াও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলা সদরেও রপ্তানি হচ্ছে এখানকার রকমারী সবজি।
সবজি রপ্তানিকারক পুঠিয়ার শিবপুর বহুমুখী সমবায় সমিতির পরিচালক আব্দুল কুদ্দুস মিয়া জানান, তাদের সমিতির নিজস্ব আটটি ট্রাক রয়েছে। তারা এসব ট্রাকে করে প্রতিদিনি বিভিন্ন সবজি ঢাকা ও চট্রগ্রামে রপ্তানি করে থাকেন। চট্টগ্রামের আড়তে পৌঁছানা পর্যন্ত প্রতি কেজি সবজিতে তাদের খরচ পড়ে ৬ থেকে ৮ টাকা। প্রতি ট্রাকে তারা ১২ থেকে ১৪ টন সবজি রপ্তানি করেন। সকল খরচ মিটিয়ে প্রতি ট্রাক সবজিতে তাদের লাভ টিকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। তবে এই বাজার প্রতিনিয়ত আফ ডাউন করে। অনেক সময় আবহাওয়াগত কারণ ছাড়াও ব্যাপক উৎপাদন ও আমদানির কারণে তাদের লোকসান গুনতে হয়।
একই এলাকার আরেক সবজি ব্যবসায়ী কোরবান আলী জানান, পথে পথে চাঁদাবাজি, টোল আদায়ের নামে তাদেরকে নানান ভাবে হয়রানী করা হয়। তিনিসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয় কৃষকরা সবজি উৎপাদনশীল এলাকা হওয়ায় বাগামারায় আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন একটি কৃষি মার্কেট নির্মাণের দাবী জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাজিবুর রহমান জানান, সবজি উৎপাদেন বাগমারা এখন জেলার শীর্ষে। মান সম্পন্ন সবজি উৎপাদনে জৈব পদ্ধতির প্রয়োগ ও উন্নত বীজ সরবরাহের মাধ্যমে কৃষকদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। এছাড়া কৃষক ব্যবসায়ীদের চাহিদামত স্থানীয় পর্যায়ে একটি কৃষি মার্কেট নির্মাণের বিষয়টি মন্ত্রনালয়ে জানানো হবে।
ইত্তেফাক/এমআই
