জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কাচিহারা গ্রামের কাটাখালি খালের ওপর নির্মিত ব্রিজটি গত বন্যায় ভেঙে পড়ে। ফলে দশ গ্রামের মানুষের যাতায়াত ও যোগাযোগে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ গ্রামগুলোর প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ব্রিজটি নির্মাণের অতি অল্প সময়ের ভেঙে পড়ায় নিন্মমানের কাজের অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।
ইসলামপুর উপজেলা প্রকৌশলীর (এলজিইডি) অফিস সূত্রে জানা যায়, ৭০ মিটার দীর্ঘ এবং ৫ মিটার প্রস্থ ফুটওভার ব্রিজটি ২০০১ সালে খালের ওপর নির্মাণ করা হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বর মাসের বন্যায় ব্রিজটির মাঝখানের দুটি গাডার ভেঙে পড়ে। চারটি বিম দেবে গেছে ব্রিজের। কাচিহারা, পচাবহলা, পূর্ব পচাবহলা, শংকরপুর, নতুনপাড়া, নাউভাঙা, ধর্মকুঁড়া, ফকিরপাড়া, পূর্ব আলাইপাড়, ও পাচবাড়িয়া গ্রামসহ প্রায় ১০ গ্রামের কমপক্ষে ২৫হাজার মানুষ ব্রীজ ব্যবহার করে যাতায়াত করে আসছিলেন। বর্তমানে গ্রামের লোকজন বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে নৌকা করে খাল পারাপার হচ্ছেন।
পচাবহলা দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবুল হোসেন, সুজন মিয়া, অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী আলেয়া, আনোয়ার হোসেন জানায়, প্রায় আড়াই মাস হল ব্রিজটি ভেঙে পড়েছে। তারপর থেকে পচাবহলা দাখিল মাদ্রাসা, উত্তর পচাবহলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পচাবহলা মডেল একাডেমির প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী নৌকাযোগে পারাপার হচ্ছে। প্রত্যেকের প্রতিদিন যাতায়াত করতে দশ টাকা ভাড়া লাগে। পাশাপাশি জীবনের ঝুকি নিয়ে কঁচিকাঁচা শিক্ষার্থীদের পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তারা দ্রুত ব্রিজটি নির্মাাণের দাবি জানিয়েছে।
গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, যে কোন ব্রিজ কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ বছর টিকে থাকার কথা অথচ নিন্মমানের কাজ হওয়ার কারণে মাত্র ১৬ বছরের মধ্যেই ব্রিজটি ভেঙে গেল। এদিকে দীর্ঘ আড়াই মাস অতিবাহিত হলেও আজ পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে চলাচলে বিকল্প কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তাই এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাদের দাবি বর্তমানে চলাচলের জন্য সরকারি খরচে একটি বাঁশের সাকো তৈরি করে দিলে দূর্ভোগ অনেকটাই লাগব হবে।
এ ব্যাপারে ইসলামপুর উপজেলার প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোহাম্মদ আহসান আলী বলেন, ফুটওভার ব্রিজটি সেই সময়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্মিত। বন্যার কারণেই ব্রিজটি ভেঙে পড়েছে। নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য গত মাসের শেষের দিকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন হলে পুনরায় ব্রিজটি নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করা হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
