সিরাজগঞ্জের তাড়াশে স্ত্রীর অধিকার দাবিতে তিনদিন ধরে অনশন করছে সাবানা খাতুন (২৬) নামে এক তরুণী। গতকাল শনিবার থেকে উপজেলার তাড়াশ সদর ইউনিয়নের কাউরাইল গ্রামের সোবাহান পীরের বাড়িতে অনশন করছেন তিনি। সাবানা একই উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের ভাদাশ গ্রামের আহম্মেদ আলী আকন্দের মেয়ে।
সাবানা খাতুন ও তার নিকটবর্তী প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানা গেছে, মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাদের। এরপর চলতি বছর মে মাসের ১৬ তারিখে সোবাহান পীরের ছেলে রেজাউল করিম গোপনে বিয়ে করে সাবানাকে। প্রথম স্ত্রীর ১৪ বছর ধরে সন্তানাদি হচ্ছে না বলে দ্বিতীয় বিয়ে করের তিনি। এ ক্ষেত্রে এক লাখ টাকার কাবিন করা হয়। যা পরবর্তীতে ভুয়া প্রমাণিত হয়।
সাবানা জানান, বিয়ের পর প্রথম ছয়দিন তাকে ঢাকায় রেজাউলের এক চাচাত বোনের বাড়িতে রাখে। এরপর চাপের মুখে ঢাকা থেকে সাবানাকে এনে গভীর রাতে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে রেখে চলে যায়। নিরুপায় হয়ে বাবার বাড়িতে গিয়ে ওঠে। অনেক দেনদরবারের পর রেজাউল তাকে স্ত্রী হিসেবে অধিকার দিতে বাধ্য হয়। শ্বশুর বাড়িতে সাড়ে পাঁচ মাসের মত সংসার করেন তিনি। তবে কারণে অকারণে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন স্বামী আর শ্বশুর-শাশুড়ি মিলে। অক্টোবরের ২৯ তারিখে স্ত্রীকে রেখে কর্মের সন্ধানের কথা বলে ঢাকায় চলে যায় রেজাউল। যাওয়ার পর ফোন করে সাফ জানিয়ে দেয়, তার সঙ্গে সংসার করা সম্ভব না। একই সঙ্গে সব ধরণের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
এদিকে স্বামী ঢাকায় চলে যাওয়ার পরই শ্বশুর-শাশুড়ি নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয় বলে অভিযোগ করেন সাবানা। আবারও চলে যান বাবার বাড়িতে। সেখান থেকেও ফিরিয়ে দেওয়া হয় তাকে। উপায়-অন্ত না পেয়ে ফিরে আসে শ্বশুর বাড়িতেই। কাবিন না থাকায় আইনের দ্বারস্থও হতে পারছে না বিয়ে পাশ করা ওই তরুণী। অবশেষে স্ত্রীর অধিকার ফিরে পেতে তিনদিন ধরে শ্বশুরবাড়িতে অনশন করছের তিনি।
তাড়াশ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনজুর রহমান জানান, বিষয়টি তিনি অবগত নন। অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে।
ইত্তেফাক/জামান
