ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ থেকে সরাইলের মধ্যে ৫ দিনের ব্যবধানে রাতে ২টি ডাকতিসহ খুনের ঘটনায় যানবাহনে যাত্রীদের মধ্যে আতংক দেখা দিয়েছে।
মহাসড়কে আশুগঞ্জ থেকে বিজয় নগরের চান্দুরা সাতবর্গ ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কিলোমিটার পথ। এ পথ হঠাৎই যেন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে।
তবে পুলিশ বলছে, ঘটে যাওয়া দুইটি ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় উল্লেখিত সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত শুক্রবার গভীর রাতে মহাসড়কের সাইলের বেড়তলা এলাকায় খুন হন মো. রফিকুল ইসলাম (২৮) নামে এক মাছ ব্যবসায়ী। তিনি রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার শাহপুর গ্রামের মো. ছদর মোল্লার ছেলে। মাছ বোঝাই ট্রাক নিয়ে সিলেট যাচ্ছিলেন রফিকুল ইসলাম। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে মহাসড়কের সরাইলের বেড়তলা এলাকায় পৌঁছার পর ভ্যানটিকে লক্ষ্য করে কৌশলে ঢিল ছোড়া হয়। গাড়ির কোনো সমস্যা হয়েছে ধারণা করে চালক গাড়ি থামিয়ে ফেলেন।
এ সময় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত কয়েকজন প্রথমে ট্রাক চালককে জিম্মি করে। এক পর্যায়ে রফিকুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করে এতে মৃত্যু হয় তার। এ সময় হেলপার আহত হয়। পিকআপ ভ্যানটি নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে সরাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার ও পরে শায়েস্তাগঞ্জ এলাকা থেকে ট্রাকটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে আহত হেলপারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ।
এর আগে গত ১৩ নভেম্বর গভীর রাতে আশুগঞ্জে খুন হয়েছেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সোয়ারগাঁও গ্রামের কামাল আহমেদ নামে এক ফার্ণিচার ব্যবসায়ী।
বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জের বাহাদুপুর এলাকায় কামাল আহমেদকে বহনকারী পিকআপ ভ্যানের গতিরোধ করে এর নিয়ন্ত্রণে নেয় হামলাকারীরা। পরদিন সকালে তালশহর-বাহাদুরপুর সড়ক থেকে পুলিশ কামাল আহমেদের লাশ উদ্ধার করে। শায়েস্তাগঞ্জ থেকে আটক করা হয় পিকআপ ভ্যানটি।
জানা যায়, আশুগঞ্জ থেকে সাতবর্গ চান্দুরা ব্রিজ পর্যন্ত রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত হাইওয়ের থানার একটি টহল টিমসহ এই দীর্ঘ ৩৪ কিলোমিটার পথে তিন থানার ৩টি টিম থাকে।
খাঁটিহাতা হাইওয়ের পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, একটি পিকআপ নিয়ে কখনো ইমার্জেন্সি ডিউটি, কখনো সড়ক দুর্ঘটনার কাজে, কখনো টহলে যেতে হয়। তবে একসঙ্গে একাধিক কাজ হলে সমস্যা দেখা দেয়। লোকবল বাড়ানোর পাশাপাশি আরেকটি পিকআপ ভ্যান দরকার। দুইটি ঘটনার পর সড়কে আগের চেয়ে টহল বাড়ানো হয়েছে।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: ইকবাল হোসাইন বলেন, ইতিমধ্যে মহাসড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আর অচিরেই ঘটে যাওয়ার দুটি দুর্ঘটনায় জড়িতদের অনেকটায় চিহ্নিত করা হয়েছে। শীঘ্রই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
