চট্টগ্রামের হাটহাজারীর নাঙ্গলমোড়া বাজারের পূর্বে হালদা নদীতে অবস্থিত 'বহরম চৌধুরী ফেরি ঘাট'। যেটি ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত। শুষ্ক মৌসুমে তথা বছরে ৬মাস নদীর উপর দিয়ে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে মানুষ ও যান চলাচল করলেও বাকি ৬মাস নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা একটি নৌকা। এ নৌকা দিয়েই প্রতিদিনই ঝুঁকিপূর্ণভাবে নদী পারাপার হয় হালদা নদী সংলগ্ন হাটহাজারী, রাউজান ও ফটিকছড়ি উপজেলার কয়েক হাজার জনগণ।
সরেজমিন ঘাট এলাকায় গিয়ে কথা হয় স্থানীয়দের সাথে। এই ঘাটটি রাউজান উপজেলার নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের আওতাধীন সরকারি ইজারাভুক্ত। বছরে ৬মাস নৌকা দিয়ে বাকি ৬মাস বাঁশ নির্মিত সাঁকো দিয়ে মানুষ চলাচল হয়। শুষ্ক মৌসুমে নির্মিত সাড়ে ৫ফুট প্রস্থের বাঁশের সাঁকো দিয়ে তিন উপজেলার প্রতিদিন অন্তত ২০ হাজার জনগণ পায়ে হেটে, রিকসা, সাইকেল এমনকি সিএনজি চালিত অটোরিকশা দিয়ে চলাচল করে থাকে। পারাপার হয়ে থাকে ভ্যান, গৃহপালিত পশুও। তবে সাঁকো না থাকলে বর্ষা মৌসুমে নৌকা যোগে প্রতিদিন ৩হাজারের অধিক জনগণ নৌকাযোগে ঝুঁকিপূর্ণভাবে নদী পারাপার হয়।
নদী পার হয়ে আসা-যাওয়া করা নাঙ্গলমোড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যথাক্রমে জেসমিন আক্তার (৮ম শ্রেণি), জাহেদুল আলম (৯ম শ্রেণি), মুহিনুল ইসলাম (৬ষ্ঠ শ্রেণি)সহ অনেকে বলেন, ঝুঁকিপূর্ণভাবে বছরের ৬মাস নৌকা দিয়ে ঘাট পারাপার হই। প্রতিদিনই ১০টাকা পরিশোধ করতে হয়। নৌকাযোগে ঘাট পার হতে গিয়ে অনেকবার পড়ে গেলেও সাঁতার জানার কারণে কোনভাবে বেঁচে যাই। আমরা কি একটি কোনদিনও নতুন সেতু পাবো না?
নাঙ্গলমোড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফিরোজ চৌধুরী বলেন, 'বিদ্যালয়ের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী নদী পার হয়ে লেখাপড়া করে। সেতুটি নির্মাণ হলে শিক্ষার্থীদের দুর্দশা কেটে যাবে।' কৃষক ইছহাক জানান, ৮শ' শতক জায়গা রয়েছে নদীর ওপারে। এই সেতুটি হলে চাষাবাদ অনেক সহজতর হবে। কৃষক নিহার বড়ুয়া(৬৫) বলেন, 'আমার উপজেলা রাউজান হলেও দূরত্ব কমানোর জন্য সুদূর প্রাচীনকাল থেকে এই ঘাটটি ব্যবহার করে আসছি। শেষ বয়সে যদি সেতুটি দেখে মরতে পারি তবেই সার্থক।'
রাউজান উপজেলা প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, '৪২ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৫মিটার প্রস্থের এই সেতুটি নির্মাণের জন্য তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি এ.বি.এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি গুরুত্বসহকারে দেখছেন।' রাউজানের সাংসদ এ.বি.এম. ফজলে করিম চৌধুরী এমপি ইত্তেফাককে বলেন, 'বিষয়টি নিয়ে অবগত আছি। কাজও করে যাচ্ছি।'
ইত্তেফাক/জামান
