এক বছরে বন্ধ হয়ে গেছে ৩শ’ টেক্সটাইল মিল

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৯, ২১:০৭

দেশের বিশাল বিনিয়োগের প্রাইমারি টেক্সটাইল খাত এখন সংকটে রয়েছে। গ্যাস বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্যের মধ্যেই দাম দ্বিগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদেশ থেকে মিথ্যা ঘোষণায় সুতা, কাপড় ও পোশাক আমদানি হওয়ায় প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না উদ্যোক্তারা। এমন পরিস্থিতিতে তিনশ টেক্সটাইল মিলই লোকসান গুণতে গিয়ে অবশেষে বন্ধ হয়ে গেছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) হিসাবে, বর্তমানে টেক্সটাইল মিল অধ্যুষিত এলাকায় ঈদের আগের সেই চিরচেনা কর্মচাঞ্চল্য নেই। এসব এলাকায় এক লাখ পাওয়ার লুমের মধ্যে অর্ধেকেরই বেশি বন্ধ হয়ে আছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার নতুন ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) আইন বাস্তবায়ন করলে বর্ধিত হারে ভ্যাট দেওয়ার বাধ্যবাধকতায় তা ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দেবে। ফলে নতুন নতুন মিল বন্ধ হতে থাকবে। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের কাছে ৯ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন এ খাতের বিদ্যমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এ সময় দেশের টেক্সটাইল মিল অধ্যুষিত নরসিংদী, মাধবদী, বাবুর হাট, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, পাবনা ও সিরাজগঞ্জের টেক্সটাইল খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বন্ড সুবিধায় ও চোরাই পথে আনা সুতা, কাপড় ও শাড়িসহ বিদেশি পোশাকে দেশের কয়েকটি এলাকার বাজার সয়লাব হয়ে গেছে উল্লেখ করে বিটিএমএর পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়। সংগঠনের সভাপতি বলেন, প্রাথমিক বস্ত্রকল খাতের বিদ্যমান সংকট উত্তরণের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ‘নিশ্চিতভাবে’ এ খাতসহ সবাই বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। মিথ্যা ঘোষণায়, চোরইপথে ও বন্ড সুবিধায় আনা কাপড়ে ঢাকার ইসলামপুর, নারায়ণগঞ্জের টানবাজার, আড়াইহাজার, গোপালদি, বাবুরহাট, নরসিংদী, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জে বিক্রির কারণে প্রাথমিক বস্ত্রখাতের স্পিনিং, উইভিং ও প্রসেসিং মিলগুলো মারাত্মক সংকটে রয়েছে। দেশের মিলগুলোর অর্ধেকের বেশি লুম বন্ধ হয়ে আছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে  টেক্সটাইল ও এ সংশ্লিষ্ট মিলগুলো মজুরি পরিশোধ তো দূরের কথা, তারল্য সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে লাখ লাখ লোক কর্মহীন হয়ে পড়বে, যা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।

এ সময় নতুন ভ্যাট আইন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বলা হয়, বর্তমানে মিলগুলো প্রতি কেজি সুতায় ১৫ টাকা থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত লোকসান দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার ট্যারিফ মূল্যের ভ্যাট ব্যবস্থা উঠিয়ে দিয়ে ভ্যাটের হার বাড়িয়ে দিলে সুতার মূল্য বাড়বে। ফলে মিলগুলোর বিদ্যমান পরিস্থিতির আরো অবনতি হবে। বস্ত্রকল খাতের উপর ভ্যাটের প্রভাব নিয়ে ‘গভীর পর্যালোচনা’র আগে এ খাতের উপর কোনো ধরনের ভ্যাট আরোপ না করার দাবি জানানো হয়।

সুতা ও কাপড়ের বিদ্যমান ভ্যাটের হার অব্যাহত রাখা, আগামী ১০ বছরের জন্য এ খাতের কর্পোরেট করহার সাড়ে ১২ শতাংশে রাখা, ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধের মেয়াদ আরো ১২ বছর পর্যন্ত বাড়ানো ও সুদের হার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশে রাখা, নগদ সহায়তা বিদ্যমান চার শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা এবং তা কাপড়ের রপ্তানি মূল্যের উপর প্রদান করার দাবি জানানো হয়। এছাড়া আমদানিকৃত সুতা ও কাপড়ের উপর বাস্তবসম্মত ট্যারিফ ভ্যালু নির্ধারণ করা এবং বন্ড সুবিধায় আনা সুতা ও কাপড়ের মোড়কে ‘নট ফর সেল’ বা বিক্রয়ের জন্য নয় লিখে দেওয়া, বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ব্যবস্থাপনাকে আরো কার্যকর করা, অবৈধভাবে আমদানি করা বিদেশি সুতা, কাপড় ও বস্ত্রসামগ্রী বিপণন ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান জোরদার করা, দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় ঈদুল আজহা পর্যন্ত বিদেশি শাড়ি, লুঙ্গিসহ সব ধরনের পোশাক বিক্রি নিষিদ্ধ করা এবং শুল্ক স্টেশনগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।