গোলাপি ঠোঁটের গাড় লাল রঙের চোখ নিয়ে 'ইষ্টিকুটুম' পাখির ডাকে মুখরিত মেহেরপুরের মাঠ-ঘাট-প্রান্তর। জেলার সর্বত্র গাছ থেকে গাছে আশ্রয় নিয়ে কর্কশ স্বরে ডাকাডাকি করতে শোনা যাচ্ছে পাখিটির।
ইষ্টকুটুম পাখিটির মাথা, ডানা ও পুচ্ছে কালো রঙে ঢাকা। দেহের বাকি অংশ সোনালি হলুদ রঙের চোখে স্পষ্ট কালো রেখা। ইষ্টিকুটুম পাখিদের কলতান ফুটিয়ে তুলেছে গ্রামবাংলার আসল রূপ! গ্রাম-গঞ্জে গেলে সেই সব মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য আর চোখে পড়ে না। তবে, সম্প্রতি জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে মাঠ, গাছপালা, ঝোপ ইত্যাদি ধ্বংস করে, জলাভূমি ভরাট করে শুধু ঘন বসতি আর ঘিঞ্জি বস্তি তৈরি হচ্ছে। অনেকস্থানে গাছপালাহীন, পশুপাখিহীনগ্রামগুলো এখন ছন্দহীন কবিতার মতোই।
তবে, মেহেরপুরের গ্রামাঞ্চলের সর্বত্র প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামগুলোতে গেলে সেখানে দেখা মেলে অনেক উঁচু-উঁচু গাছপালা, ঝোপঝাড়, খাল-বিল আর কত পশুপাখি। সবুজে ঢাকা দিগন্ত প্রসারী কৃষিজমি, পুকুরে অপর্যাপ্ত মাছ। প্রতিটি ঋতুর পরিবর্তন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে সহজেই বোঝা যায় মেহেরপুরের সর্বত্র।
হলদে রঙের এই পাখিটি বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দেখা মেলে। কীটপতঙ্গ, ফল ও ফুলের নির্যাস আহার করে প্রকৃতিতে আজো টিকে আছে ইষ্টিকুটুম।
ইত্তেফাক/জামান
