রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু না হলেও মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা দিন-রাত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার মেয়র পদে ত্রিমুখী লড়াই হবে। আওয়ামী লীগ মনোনীত জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু ও জাতীয় পার্টির (এ) মহানগর সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা এবং বিএনপি’র মহানগর সহ-সভাপতি কাওসার জামান বাবলার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। রংপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতি কর্মী রকিবুল হাসান বুলবুল বলেন, মহানগরীর শান্তিকামী মানুষ বিপুল উত্সাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করতে সক্ষম হবে বলে আমরা আশা করি।
জানা যায়, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর। প্রথমবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হওয়ায় সব প্রার্থীই ছিলেন স্বতন্ত্র। তবে তাদের দলীয় পরিচয় ছিল, দলীয় সমর্থনের বিষয়টিও ছিল। গতবার জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু বিজয়ী হয়েছিলেন ১ লাখ ৬ হাজার ২৫৫ ভোট পেয়ে। আর দলের সমর্থন পাওয়া মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমান সফি পেয়েছিলেন ৪ হাজার ৯শ ৫৪ ভোট। এ দিকে, মেয়র পদে জাপার (এ) প্রার্থী রংপুর মহানগর সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান গতবার ছিলেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী। ৭৭ হাজার ৮’শ ৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। গতবার দলীয় সমর্থন পাওয়া সাবেক পৌর মেয়র ও শহর জাপার (এ) সহ-সভাপতি একেএম আবদুর রউফ পেয়েছিলেন ৩৭ হাজার ২শ ৮ ভোট। অপরদিকে, বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী কাওসার জামান বাবলা ২১ হাজার ২৩৫ ভোটে চতুর্থ স্থান দখল করেন। এ ছাড়া, ইসলামী আন্দোলনের জেলা সভাপতি এটিএম গোলাম মোস্তফা গতবার ১৫ হাজার ৬শ ১৮ ভোট পেয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু গত ২২ নভেম্বর বুধবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগের দুদিন দলের মহানগর ও জেলা নেতাদের সঙ্গে দলীয় কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা করেছেন। তিনি বলেছেন, ছোটখাটো যে মতপার্থক্য ছিল, মনখোলা কথাবার্তায় তা মিটে গেছে। জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু ও মহানগর কমিটির সভাপতি সাফিউর রহমান সফি এবং সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল বলেন, আমরা কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছি। যেখানেই যাচ্ছি সেখানেই নৌকার গণজোয়ার লক্ষ্য করছি।
জাতীয় পার্টির (এ) মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী রংপুর মহানগর সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, তিনি বিপুল জনসমর্থন পাচ্ছেন। ভোটাররা মনে করছেন এবার সত্যিকার অর্থে ঠিক মানুষকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর আগে চাপিয়ে দেওয়া লোকদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাই লাঙ্গল প্রতীকের পক্ষে এবার বিপুল জোয়ার এসেছে। মহানগর জাতীয় পার্টির (এ) সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির বলেন, লাঙ্গলের জোয়ার উঠেছে। আমরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো।
বিএনপি’র প্রার্থী বাবলা আশা করছেন দলীয় সমর্থক ছাড়াও সরকার বিরোধী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে ভোট দেবে। তিনি বলেন, ধানের শীষ সবচে ভালো অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলার রহমান বাদল বলেন, আমরা যেখানেই যাচ্ছি সবাই ধানের শীষে ভোট দেবেন বলে কথা দিচ্ছেন।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ১৯৩টি কেন্দে র মধ্যে ১২৮টি কেন্দ কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ সব কেন্দে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রংপুর সিটি কর্পোরেশনে বর্তমানে ভোটার রয়েছে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯শ ৯৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫৯ এবং নারী ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৬২ জন।
এ দিকে, গতকাল শনিবার থেকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউন্সিলর সাধারণ ৬ এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে বলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাহাতাব উদ্দিন জানিয়েছেন।
ইত্তেফাক/নূহু
