নকশী কাঁথায় ভর দিয়ে চলে জীবন

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১৭, ১০:৫৬
 
বাগমারার নিভৃত গ্রামের আনোয়ারা, জরিনা ও কোহিনুরের নিপুন হাতের তৈরি নকশি কাঁথা যেন কবি জসিম উদ্দিনের সেই নকশি কাঁথার গল্প মনে করিয়ে দেয়। কোন নাটক বা গল্পের কাহিনী হিসাবে নয়। এরা নকশি কাঁথায় মনোনিবেশ করেছে জীবন জীবিকার তাগিদে। এদের কেউ বিধবা, কেউবা স্বামী পরিত্যক্তা আবার অনেকের বিয়েই হয়নি যৌতুকের টাকার অভাবে। তবে তারা কারো বোঝা হয়ে নেই। নিজেরাই নিজেদের বাঁচার অবলম্বন খুঁজে নিয়েছে।
 
উপজেলার নরদাশ ইউনিয়নের গোরসার গ্রামের এমন প্রায় অর্ধশতাধিক নারী এখন কাঁথা সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করছে। এরা না পেয়েছে কোন এনজিও’র ঋন না পেয়েছে সরকারি কোন সাহায্য সহযোগিতা। এরা নিজেদের সামান্য পুজি দিয়ে কাপড় ও সুঁই সুতা কিনে অবসরে সেলাই করে চলেছে নানান ডিজাইনের কাঁথা। তারা জানান, কাঁরুকাজের উপর এসব কাঁথা তৈরির সময় ও মূল্য নির্ভর করে। সর্বনিম্ন একহাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা মূল্যের কাঁথা তারা তৈরি করেন। মানভেদে এসব কাঁথা তৈরিতে সময় লাগে তিন সপ্তাহ থেকে তিন মাস।
 
স্বল্পমূল্যের কাঁথাগুলো স্থানীয় বাজারে এবং রকমারি ডিজাইনের অধিক মূল্যের কাঁথাগুলো শহরে বিক্রির জন্য পাঠানো হয়। এই গ্রামের কয়েকজন মত্সচাষী কাঁথা সেলাইয়ের কাজে নিয়োজিত ওই নারীদের ব্যাপক প্রশংসা করে জানান, তাদের অনেকেই গ্রামে ফসল কাটা ও মাড়াইয়ের সময় দিন মজুর হিসাবে শ্রম দেয় এবং অবসরে কাঁথা সেলাই করে বাড়তি আয় রোজগার করে। তাদের মতে, এসব নারীদের কিছু প্রশিক্ষন ও পুঁজি দিয়ে সহযোগিতা করলে তাদের তৈরি পন্য বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
 
ইত্তেফাক/এএম।