মুক্তাগাছায় খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছি

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৭, ১১:৫৭
 
ময়মনসিংহে মুক্তাগাছায় এবার শীত আগেই এসে পড়েছে। জমিনে রোদ্দুরের গায়ে আধো আধো সোনালি রঙ ধরেছে। খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা।
 
ভোরের ঘুম ভাঙা সকাল এখন কুয়াশায় মাখামাখি। খেজুরের গাছগুলিতে হাঁড়ি ঝুলিয়ে তা থেকে রস সংগ্রহ শুরু করেছেন গাছিরা। তারা বলছেন, শীত তড়িঘড়ি চলে আসায় রসও হাঁড়িতে পড়ছে। রসের হাঁড়ি দ্রুতই ভরে যাচ্ছে।
 
এদিকে উপজেলায় ইটভাটায় জ্বালানির দাপটে খেজুর গাছ কেটে অনেকটাই সাবাড় হয়ে গেলেও যা আছে, ১০ ইউনিয়ন ও পৌরএলাকার মানুষকে তা খুশি করার পক্ষে কম নয়।
 
উপজেলার মুজাটির বাসিন্দা রস বিক্রেতা সাহেব আলী জানান, ইতোমধ্যেই আমার মত সকল গাছিরাই একেক জন অন্তত ৫০ থেকে একশ খেজুর গাছ কেটে ফেলেছেন।
 
তিনি জানান, একটা খেজুর গাছ তিনবার কাটার পরে তাতে নলি লাগিয়ে রসের জন্য ভাঁড় পাতা হয়। একটা খেজুর গাছ থেকে দিনে দু’বার রস মেলে। ভোরের রসকে মিষ্টি এবং বিকালের রসকে তারি বলে। মাঘ মাস থেকে রস কমতে শুরু করে। ওই সময়ে রসের ঘনত্ব বাড়ে।
 
মুক্তাগাছা বাংলাদেশের কৃষিপ্রধান অঞ্চল হিসাবে সমাদৃত। উপজেলার দুল্লা, বড়গ্রাম, তারাটি, মানকোন, কুমারগাতা, বাঁশাটি, ঘোগা, দাওগাঁও,কাশিমপুর, খেরুয়াজানি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে কয়েক হাজার খেজুর গাছ রয়েছে। এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, গাছ ঝাড়ার ধুম পড়েছে ।
 
স্থানীয়রা জানান, অতীতে উপজেলার সর্বত্র বহু খেজুর গাছ ছিল। ইটভাটায় জ্বালনি হিসাবে অনেক গাছ বিক্রি করা হয়েছে । রস মৌসুমে প্রতিটি খেজুর গাছ ভাড়া হয় ২/৩ শ’ টাকায়। মৌসুমের শেষে অনেকেই গাছা বিক্রি করে দেন । মূলত ইট ভাটার জ্বালানির জন্য খেজুর গাছের চাহিদা রয়েছে। যদিও দাম অন্য গাছের তুলনায় কম। খেজুর গাছের মালিকরা জানান, শীত শিঘ্রই এসে পড়ায় রস সংগ্রহকারীদের চাহিদা বেড়েছে ।
 
চলতি মৌসুমে একটি খেজুর গাছ থেকে ১৫-২০ কেজি রস পাওয়া যাচ্ছে। সপ্তাহে একদিন গাছ কাটা হলে তিন দিন রস পাওয়া যাচ্ছে। রসপায়ীরা জানান, শীতের সকালে ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে খেজুর রস খাওয়ার মজাই আলাদা।
 
ইত্তেফাক/এএম।