টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক ও হাটবাজারগুলোতে জ্বলছে সৌরবাতি। সৌর বিদ্যুতের আলোয় এখন আলোকিত হয়েছে এলাকা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিকসহ কমেছে বিদ্যুতের চাপ, উপকৃত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় ও এলাকাবাসী সরকারি এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় সৌর বিদ্যুতের সড়কে ও হাটবাজারে এ বাতি বসানো হয়েছে। সখীপুর-সাগরদিঘী সড়কের ৩০ কি.মি, সখীপুর-গোপিনপুর সড়কে ১৫ কি.মি, সখীপুর-নলুয়া সড়কসহ উপজেলার প্রতিটি বাজার, গুরুত্বপূর্ণ স্থান, বিভিন্ন রাস্তার মোড়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সামনে প্রায় দুই শতাধিক পয়েন্টে স্টিলের বিশেষ ধরনের সোলার পোলে (স্টেট লাইট) এ বাতি বসানো হয়েছে।
ঢাকা-গারোবাজার সড়কের ট্রাক চালক শ্রী ধীরেণ চন্দ্র রবিদাস বলেন, এ সড়কের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সোলার প্যানেল বসানোর কারণে ডাকাতির পরিমাণ কমেছে। তাছাড়া এখন নিরাপদে গাড়ি চালানো যায়, ভয় করে না।
বড়চওনা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, এ এলাকায় বিদ্যুতের লোডশেডিং একটু বেশি। কিন্তু সৌর বিদ্যুতের সোলার বাতি বসানোয় বাজারে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পরও আলো থাকে। এতে বাজারে চুরি-ডাকাতির শঙ্কা কম।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এরশাদুল আলম বলেন, সমৃদ্ধ ও বিশাল এ উপজেলার যেখানে মানুষের চলাচল রয়েছে সেই স্থানে সৌর প্যানেলের মাধ্যমে আলো পৌঁছানো হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় দুই শতাধিক পয়েন্টে স্টিলের বিশেষ ধরনের সোলার পোলে সৌর বিদ্যুতের এ সড়ক বাতি বসানো হয়েছে। এসব বাতিগুলোতে বিশেষ অটোসার্কিট লাগানো হয়েছে। নির্ধারিত সময় হলেই জ্বলে উঠবে, আবার নিভে যাবে।
টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ এ স্লোগানের বাস্তব রূপটিইও সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে পূরণ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, সরকারের টিআর (টেস্ট রিলিফ) বরাদ্দের ৫০ ভাগ সোলারের জন্য নির্ধারিত। যদিও সোলার স্থাপনের জন্য নির্ধারিত স্থান উল্লেখ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, সখীপুর-বাসাইল উপজেলাকে আলোকিত করার লক্ষে সড়কে ও হাটবাজারে বাতি স্থাপনে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেখা গেছে, যে সব জায়গায় চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই হতো সড়ক বাতি স্থাপনের ফলে তা কমেছে। এছাড়াও রাতের আঁধারে সৌর বিদ্যুতের আলোয় নিরাপদে মানুষ চলাচল করবে যোগ করেন তিনি।
ইত্তেফাক/এমআই
