মহাদেবপুরে পুলিশের বিরুদ্ধে এক মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত অপর দুই মাদক ব্যবসায়ীকে মামলা দিয়ে রবিবার জেল হাজতে পাঠানো হয়।
তারা হলেন- বদলগাছী উপজেলার ভরাট্ট গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে শাহিন হোসেন (২৬) ও প্রধানকুণ্ডি গ্রামের ইয়াসিন মোল্লার ছেলে সুজন মোল্লা (৩৫)। এছাড়া ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে মোহনপুর গ্রামের ফিরোজ হোসেনকে।
জানা যায়, শনিবার সকাল ১০টার দিকে মহাদেবপুর উপজেলার মহিষবাথান গ্রামের রাস্তায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আগে থেকে ফোর্স নিয়ে অবস্থান করছিলেন এএসআই আব্দুর রউফ। একটি মোটরসাইকেলে তিনজন ওই রাস্তার দিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ সন্দেহমূলক শাহিন হোসেন, সুজন মোল্লা এবং ফিরোজ হোসেনকে আটক করে। এসময় তাদের কাছ থেকে দেড়কেজি গাঁজা পাওয়া যায়।
তাদের আটক করে থানার বাহিরে রেখে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার জন্য দফায় দফায় বৈঠক হয়। মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এক লাখ টাকায় রফাদফা হয়ে সকলকেই ছেড়ে দেয়া হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। অবশেষে ২২ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে মোটরসাইকেলসহ ফিরোজকে ছেড়ে দেয়া হয় বলে জানা যায়। এছাড়া শাহিন হোসেন এবং সুজন মোল্লার বিরুদ্ধে মাদকের মামলা দেওয়া হয়।
মোটরসাইকেলের মালিক সেকেন্দার আলী বলেন, ওই তিনজন বেড়ানোর কথা বলে আমার মোটরসাইকেল নিয়ে যায়। পরে শুনি গাঁজাসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ। তাদের ছেড়ে দেওয়ার শর্তে পুলিশের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়। উপরের চাপ আছে বলে অবশেষে ২২ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে মোটরসাইকেলসহ ফিরোজকে ছেড়ে দেয়া হয়।
এএসআই আব্দুর রউফ বলেন, ঘুষ নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি সম্পন্ন মিথ্যা। যদি পুলিশের নাম করে কেউ টাকা নিয়ে থাকে তা আমার বিষয় না। তবে মাদকের সাথে সম্পৃক্ত না থাকায় ফিরোজ হোসেনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আর মাদকসহ আটককৃত মোটরসাইকেলের বিষয়ে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
মহাদেবপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, আটককৃত প্রধান দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে মামলা দিয়ে রবিবার জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে ঘুষ নিয়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি সম্পন্ন মিথ্যা।
ইত্তেফাক/আরকেজি
