ঘুষের টাকা ফেরত দিল পুলিশ

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০১৭, ১৯:৪৭
 
পুলিশের কাছে ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় আসামির ছেলে ও ভাতিজাকে আটকের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরদিন ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার ২দিন পর মঙ্গলবার সেই টাকা ফেরতে দেওয়া হয়েছে।
 
জানা যায়, মাদক মামলার আসামি উপজেলার কেদার ইউনিয়নের বাহেরকেদার সাহেবেরখান গ্রামের রুহুল আমিন বাবুর নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলে পার্শ্ববর্তী বল্লভেরখাষ ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ আবু সিদ্দিকের মধ্যস্থায় ১০হাজার টাকা ঘুষ নেন কচাকাটা থানার এসআই শফিকুল ইসলাম। পরবর্তীতে চার্জশিট থেকে তার নাম বাদ না দেওয়ায় টাকা ফেরত চান বাবু। এতে গড়িমসি করলে রবিবার মাদারগঞ্জ গাবতলা বাজারে গ্রাম পুলিশ আবু সিদ্দিক ও বাবুর স্বজনরা আবারও টাকা ফেরত চাইলে এসআই শফিকুল রেগে যান। এরই জের ধরে ওইদিন রাতে বাবুর বাড়িতে অভিযান চালান তিনি। পরে বাবুকে না পেয়ে তার ছেলে কচাকাটা ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি ১ম বর্ষের ছাত্র হাবিবুর রহমান ও তার ভাই শাহাজালালের ছেলে একই কলেজের এইচএসসির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র দুলাল হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। 
 
পরিবারের লোকজন এতে বাধা দিলে পুলিশের মারপিটে আহত হন বাবুর স্ত্রী হাসিনা (৩০), শাহাজালালের মেয়ে শাহাজাদী (১৮), আজাহারের স্ত্রী রহিমা (৭০), হাসান আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (২৭)। 
 
বিষয়টি জানতে পেয়ে কেদার ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোমবার সকাল ৯টায় থানায় গিয়ে আটককৃতদের ছাড়িয়ে আনেন। এনিয়ে জল ঘোলা হলে অত:পর ঘটনার ২দিন পর মঙ্গলবার দুপুরে ওই গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে ঘুষের ১০ হাজার টাকা ফেরত দেন এসআই শফিকুল ইসলাম।
 
কেদার ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জানান, বাবুর নামে ওয়ারেন্ট ছিল। রাতে বাড়িতে গিয়ে তাকে পায়নি। পরে পুলিশের সাথে পরিবারের লোকজনের ধস্তাধস্তি হয়। রাগে পুলিশ তার ছেলে ও ভাতিজাকে ধরে নিয়ে যায়। সোমবার সকালে ওসির সাথে কথা বলে তাদের ছাড়িয়ে আনা হয়। ঘুষের টাকার বিষয়ে তিনি তেমন কিছু জানেন না বলে জানান।
 
গ্রাম পুলিশ আবু সিদ্দিক বলেন, ঘুষের ওই টাকা নেওয়ার একাধিক ফোন রেকর্ড আমার সংগ্রহে রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে আমার মাধ্যমে সেই টাকা ফেরত পাঠিয়েছেন ওই এসআই।
 
শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার বিকেলে বলেন, টাকা আমি নেইনি। যদি কেউ নিয়ে থাকে তারা ফেরত দিলে দিয়েছে। আমি কিছু জানিনা। তবে ইতোপূর্বে বাবু চার্জশিট থেকে তার নাম বাদ দেওয়ার জন্য অনেকবার আমাকে অনুরোধ করা হয়েছে। আমি সে প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তারা আমার নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে।  
 
কচাকাটা থানার ওসি ফারুক খলিল মঙ্গলবার বিকেলে বলেন, মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি বাবুর সন্ধান জানতে তার ছেলে ও ভাতিজাকে থানায় নিয়ে আসা হয়। সকালে চেয়ারম্যান বলার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ঘুষের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি এ থানায় যোগদান করার আগের ঘটনা এটি। এ সব বিষয়ে আমার জানার কথা নয়। 
সরেজমিনে গেলে জানা যায়, কচাকাটা থানার এসআই শফিকুল ইসলাম গত ২৪ আগস্ট বাহের কেদার মৌজার সাহেবেরখান এলাকার নুর ইসলামের ছেলে আলম মিয়াকে দুই বোতল ভারতীয় মদসহ আটক করেন। ২৫ আগস্ট মামলা দায়ের করলে পার্শ্ববর্তী গ্রামের আমিনুল ইসলাম বাবুকেও ওই মামলার আসামি করা হয়।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি