সুজানগরে আগাম পেঁয়াজের বাম্পার ফলন

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১৭, ১১:১৩
 
পাবনার সুজানগরের চরাঞ্চলের জমিতে এবার আগাম আবাদ করা পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে পেঁয়াজ চাষিদের মুখে হাসি দেখা দিয়েছে।
 
সরেজমিন চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, বিশাল বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল জুড়ে কেবল পেঁয়াজ আর পেঁয়াজ। মাঝে মধ্যে অন্য ফসল আবাদ করা হলেও তা পরিমাণে খুবই কম। তবে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে চোখে পড়ার মতো চরাঞ্চলের প্রায় ৮০ভাগ জমিতেই আবাদ করা হয়েছে পেঁয়াজ।
 
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলার ভায়না ইউনিয়নের চরবিশ্বনাথপুর, চরমানিকদীর এবং চরলক্ষ্মীপুর মৌজার প্রায় ১২শ' হেক্টর জমির মধ্যে ৮শ' হেক্টর জমিতেই আগাম পেঁয়াজ আবাদ করা হয়েছে। বর্ষার পানিতে চরাঞ্চলের জমিতে পলি জমে মাটির উর্বর শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিটিতে জমিতে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু কিছু জমির পেঁয়াজ তোলা শুরু হয়েছে। আগামী ১০/১২দিনের মধ্যে গোটা চরাঞ্চলের জমির পেঁয়াজ তোলা শুরু হয়ে যাবে।
 
উপজেলার গোপালপুর গ্রামের কৃষক বেল্লাল হোসেন জানান, এ বছর তিনি উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শক্রমে তার চরাঞ্চলের ৪বিঘা জমিতে আগাম পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন। অনুকূল আবহাওয়া আর সঠিক সময়ে সার বিষ দেওয়ায় প্রতিবিঘা জমিতে প্রায় ৩৫মণ করে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। বর্তমানে হাট-বাজারে পেঁয়াজের বাজারও বেশ ভাল। এতে পেঁয়াজ চাষিরা অত্যন্ত খুশি।
 
হেমরাজপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল বারেক জানান, ১বিঘা জমিতে আগাম পেঁয়াজ আবাদ করতে তার সার, বীজ ও শ্রমিকসহ উৎপাদন খরচ হয়েছে ১৫/১৬ হাজার টাকা। আর প্রতি বিঘা জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫মণ। বর্তমানে হাট-বাজারে প্রতি মণ আগাম পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৬ থেকে ২৭শ' টাকা দরে। সে হিসাবে  ১বিঘা জমিতে উৎপাদিত পেঁয়াজের মূল্য ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা যা, উৎপাদন খরচের চেয়ে চারগুণ বেশি। ফলে কৃষকরা পেঁয়াজের বর্তমান এ বাজারে ভীষণ খুশি।
 
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ময়নুল হক সরকার বলেন, অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর আগাম আবাদ করার পেঁয়াজের ফলন হয়েছে খুবই ভাল। তাছাড়া দামও অন্যান্য বছরের চেয়ে দিগুণেরও বেশি। ফলে চরাঞ্চলের প্রতিটি কৃষকের মুখে হাসি দেখা দিয়েছে। তবে পেঁয়াজের এই চড়া দামে ক্রেতারা অত্যন্ত হতাশ। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ বর্তমানে এ বাজারে পেঁয়াজ কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন।
 
ইত্তেফাক/জামান