ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে বাবা নিহত, ছেলে আহত

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১৭, ১৭:৩৩
 
বগুড়ায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে শফিকুল ইসলাম (৪৫) নামে অবসরপূর্ব ছুটিতে থাকা এক সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। একই সময়ে তার ছেলে সেনাসদস্য আশরাফুল ইসলামকে মারপিট করে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও ম্যানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়েছে তারা। বুধবার ভোররাতে বগুড়া শহরতলীতে শাজাহানপুর উপজেলার শাকপালা এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। 
 
শফিকুল ইসলাম বগুড়া জাহাঙ্গীরাবাদ সেনানিবাসে সার্জেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি অবসরকালীন ছুটিতে যান এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ওই সেনানিবাসের আবাসিক এলাকাতেই বসবাস করতেন। তিনি নরসিংদী জেলার মনোহারদী উপজেলার মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে। তার ছেলে আশরাফুল ইসলাম যশোর সেনানিবাসে সৈনিক হিসেবে কর্মরত। বুধবার ভোররাতে ছুটিতে তিনি বগুড়া আসেন। 
এ ঘটনায় বগুড়ার শাজাহানপুর থানায় মামলা করা হয়েছে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করেছে। 
 
জেলা পুলিশের গণমাধ্যম শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, শফিকুল ইসলাম অবসরপূর্ব ছুটিতে থাকা সেনাসদস্য। তার ছেলে  আশরাফুল ইসলাম যশোর সেনানিবাসে সৈনিক হিসেবে কর্মরত। সেখানে প্রশিক্ষণ শেষে ছুটিতে পরিবারের সাথে সময় কাটাতে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বাসযোগে  বগুড়া জাহাঙ্গীরাবাদ সেনানিবাস সংলগ্ন শাকপালা বাসস্ট্যান্ডে আসেন। এসময় সেখানে তাকে নিতে শফিকুল ইসলাম ওই বাসস্ট্যান্ডে উপস্থিত ছিলেন।
 
পরে বাবা-ছেলে জাহাঙ্গীরাবাদ সেনানিবাসের আবাসিক এলাকায় তাদের বাসার দিকে আসার সময় ৭/৮জন ছিনতাইকারী পথরোধ করে আশরাফুলকে মারপিট করে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেয়। এসময় শফিকুল ইসলাম বাধা দেন। তখন ছিনতাইকারীরা তার কোমর ও পায়ে ছুরিকাঘাত করে। তাদের চিৎকারে পাশেই মিলেনিয়াম স্কলাশটিকা স্কুলে কর্তব্যরত নৈশ প্রহরীরা এগিয়ে আসেন এবং শফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে জাহাঙ্গীরাবাদ সেনানিবাসের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখান থেকে বগুড়া সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
 
শাজাহানপুর থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, ওই ঘটনায় নিহতের ছেলে আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রবিউল, রাকিব ও বগা নামে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
 
তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ সেনানিবাস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি