কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ১০ শয্যা বিশিষ্ট কালিকাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জনবল সংকট আর অযত্ন- অবহেলায় মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। এতে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না সাতটি ইউনিয়নের প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ। সেবা বঞ্চনার শিকার এলাকার মানুষের অভিযোগ- উপজেলার প্রথম ও প্রাচীন এ হাসপাতাল দীর্ঘ বছর ধরে ডাক্তার, নার্সসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকটে ভুগছে, এখানে কর্তৃপক্ষেরও তেমন কোনো নজর নেই।
জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর এলাকায় মনোরম পরিবেশে ১৯৫৯ সালে পাঁচ একর ভূমিতে এই হাসপাতালটি স্থাপন করা হয়। ওই সময় এই হাসপাতালটি ছিল উপজেলাবাসীর স্বাস্থ্যসেবার জন্য একমাত্র ভরসা। পরবর্তীতে উপজেলা সদরে ৫০ শয্যার একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপন করা হয়। এর পর থেকে ধীরে ধীরে ১০ শয্যার কালিকাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এটি বর্তমানে এলাকার জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় তেমন কোনো কাজে আসছে না। এখানে ডাক্তার-নার্সসহ ২১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে আছেন মাত্র ১০ জন। অস্থায়ীভাবে দুইজন ডাক্তার দেড় লক্ষাধিক জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত আছেন। এখানে চারজন নার্স থাকার কথা থাকলেও নেই একজনও। এ ছাড়া জরুরি বিভাগ থাকলেও কার্যক্রম নেই। রোগীদের শয্যাকক্ষে তালা ঝুলছে। তবে কখন তালা ঝুলানো হয়েছে তা কর্মরতদের কেউ জানাতে পারেননি। ফার্মাসিস্ট, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট ল্যাব নেই। সহ-সেবক ও অফিস সহায়কসহ চারজন করে থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র দুইজন করে। বাবুর্চি, ক্লিনারের পদগুলোও শূন্য।
এ হাসপাতালের ক্যাম্পাসে ডাক্তার, নার্স ও স্টাফদের থাকার সকল ধরনের সু-ব্যবস্থা থাকলেও এখানে কেউ থাকেন না। এতে ভবনগুলো দিনে দিনে স্যাঁতসেঁতে ও পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে। ভেঙে বিনষ্ট হয়ে পড়েছে দরজা-জানালাসহ ভবনের প্লাস্টার। ভবনগুলো জরাজীর্ণ হয়ে দেখা দিয়েছে ফাঁটল, পলেস্তরা খসে পড়ছে। অযত্ন আর অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে সরকারি এই হাসপাতালের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই কোনোমতে অফিস করছেন কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী।
প্রতিদিন এলাকার শত শত রোগীকে নিরুপায় হয়ে যেতে হচ্ছে শহর কিংবা অন্য কোনো হাসপাতালে। এখানে অবিলম্বে ডাক্তার, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সেবাবঞ্চনার শিকার স্থানীয় এলাকার জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পার্শ্বস্থ উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাসমৃদ্ধ এ হাসপাতালটিকে অনেকে ট্রমা হাসপাতাল করার দাবি জানিয়েছেন।
কালিকাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. নাসরিন সুলতানা জানান, জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে এই হাসপাতালটি ধীরে ধীরে বন্ধের উপক্রম হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নাসির উদ্দিন জানান, কালিকাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার প্রথম হাসপাতাল। এটি প্রতিষ্ঠার অনেক পরে উপজেলা সদরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলা সদরের কাছাকাছি হওয়ায় দিনে দিনে কালিকাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি অবহেলিত হয়ে পড়েছে। এখানে কমপক্ষে ১০ জন করে ডাক্তার ও নার্স এবং পর্যাপ্তসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ করে চিকিত্সা সরঞ্জামাদি প্রদানসহ ভবনগুলো সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। তিনি আরো জানান, উপজেলা সদরের ৫০ শয্যার হাসপাতালটি একশ’ শয্যায় এবং ১০ শয্যার কালিকাপুর হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা গেলে এ উপজেলার পাঁচ লক্ষাধিক জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যাবে।
ইত্তেফাক/নূহু
