ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের জলহস্তী সংসারে নতুন অতিথি

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০১৭, ১৩:০৮
 
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারাস্থ দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে আবারও জলহস্তী জুটির সংসারে আগমন ঘটেছে নতুন অতিথির। সর্বশেষ চলতিবছরের গত ৬ অক্টোবর রাতে জন্ম নেয়া একটি বাচ্চা সহ এই জুটির ১৩ বছরের সংসারে আগমন হয়েছে পাঁচটি জলহস্তী শাবকের। বর্তমানে জন্ম নেয়া পাঁচটিসহ সাফারি পার্কে জলহস্তীর সংখ্যা দাড়িয়েছে সাতটিতে।
 
জানা গেছে, পর্যটক-দর্শনার্থীদের চিত্র-বিনোদনে আকর্ষণ বাড়াতে পার্কটি প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো ২০০৪ সালে কর্তৃপক্ষ ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে সংগ্রহ করেন বিপরীত লিঙ্গের দুটি জলহস্তী। পার্কের ভেতরে পূর্বাংশের জলাধারে রাখা হয় সংগ্রহ করা জলহস্তী জুটিকে। তারপর ১৩ বছরে তাদের সংসারে জন্ম নেয় একে একে পাঁচটি শাবক।
 
সর্বশেষ চলতিবছরের ৬ অক্টোবর এই জুটির সংসারে জন্ম নেয় আরেকটি বাচ্চা। জন্মের ৬ মাস পর্যন্ত মায়ের সঙ্গে বিশাল জলাধারের পানিতেই ডুবে থাকবে এই বাচ্চা। সেখানে মায়ের দুধ পান করে বেড়ে উঠবে জলহস্তী শাবকটি। তাই এই সময় পর্যন্ত নতুন শাবকটি কোন লিঙ্গের (পুরুষ না নারী) নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন সাফারি পার্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক (রেঞ্জ কর্মকর্তা) মো. মোরশেদুল আলম। তিনি বলেন, শাবকটি বয়স ৬মাস পূর্ণ হলে পানি থেকে তীরে উঠবে। তারপর দেখা যাবে সেটি পুরুষ না নারী লিঙ্গের জলহস্তী।
 
সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি চিকিৎসক মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, জলহস্তী জুটির সংসারে আলোকিত করে জন্ম নেওয়া ৫ম বাচ্চাটি বেশ সুস্থ এবং সবল রয়েছে। জন্মের সময় প্রায় ৪৫ কেজি ওজন ছিল বাচ্চার। বর্তমানে ওজন ৬০ কেজি। জন্মের ছয়মাস পর্যন্ত পানিতেই ডুবে থাকবে এবং সেখানে মায়ের দুধ খেয়ে বড় হবে বাচ্চাটি। এর পর থেকে বেষ্টনীর পাড়ে ওঠে মা-বা, ভাই-বোনদের সঙ্গে স্বাভাবিক খাবার হিসেবে ঘাস, ভুষি, সবজি, পাহাড়ি লতা-গুল্ম খেয়ে বেড়ে উঠবে।
 
তিনি বলেন, 'প্রকৃতির নিয়মানুসারে জলহস্তী অধিকাংশ সময় পানিতে থাকে। ক্ষুধা নিবারণের জন্য মূলত জলহস্তী পানি থেকে ওঠে এসে খাবার খায়। নতুন বাচ্চাটি জন্মের ছয়মাস পর্যন্ত পানিতে ডুবে থাকবে। বাচ্চাটি কান ও নাক বন্ধ রেখে পানির ভেতরে মায়ের কাছ থেকে দুধ পান করছে। তাই এই সময় পর্যন্ত লিঙ্গ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে না।'
 
সাফারি পার্কের কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, 'জলহস্তী মূলত আফ্রিকান প্রাণী। এদের গড় আয়ু ৫০ বছর পর্যন্ত। ২০ থেকে ২২ মাস পর পর এদের প্রজনন ক্ষমতা রয়েছে। পার্ক প্রতিষ্ঠার পর ২০০৪ সালে প্রথমবারের মতো পার্কে অবমুক্ত করা হয় বিপরীত লিঙ্গের একজোড়া জলহস্তী। সেই একজোড়া থেকে বর্তমানে পাঁচটি জলহস্তী জন্ম নিয়েছে। এর মধ্যে পর পর জন্ম নেওয়া চারটি জলহস্তীর মধ্যে দুটি করে বিপরীত লিঙ্গের। এই ধারা অব্যাহত রাখতে প্রচেষ্টা রয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষের।'
 
ইত্তেফাক/জামান