গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে সোনালী ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের দায়ে ৫ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় কাশিয়ানী থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন সোনালী ব্যাংকের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া শাখা ব্যবস্থাপক মো. মোসলেম মোল্লা।
এ মামলায় ওই শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মো. ফেরদৌস আলম, এসএম জাহাঙ্গীর আলম, মো. জাহাঙ্গীর সরদার, সন্তোষ কুমার মৈত্র ও সাবেক অফিসার মো. আকতার হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। তারা সবাই চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ১৯৯৩ সালের ৪ এপ্রিল থেকে চলতি বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আসামিরা ব্যাংকের ভাটিয়াপাড়া শাখায় ম্যানেজার ও অফিসার পদে কর্মরত ছিলেন। এ সময়ে তারা যোগসাজসে কামাল মৃধা, আনোয়ার মৃধা, দেলোয়ার হোসেন মৃধা, বরফ মৃধা, সানোয়ার হোসেন মৃধা সানু, কবির মুন্সিসহ ১ হাজার ৩শ’ ২জন ঋণ গ্রহীতার নাম ব্যবহার করে ২ কোটি ৫৫ লাখ ৭ হাজার ৫শ’ ৬৪ টাকা ঋণ মঞ্জুর করেন। একই ব্যক্তির নামে একাধিক ঋণ নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত এলাকার বাইরেও ঋণ গ্রহীতা দেখানো হয়েছে। বিভিন্ন অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে ঋণ গ্রহীতার স্বাক্ষর জাল করে তারা এসব টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেন। গ্রহীতারা আদৌ স্বাক্ষর দেননি এবং ঋণের টাকা গ্রহণ করেননি এ মর্মে ব্যাংকে লিখিতভাবে জানান।
ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে ডিজিএম মো. সরোয়ার হোসেন, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার এএইচএম আশিকুর রহমান ও জুনিয়র অফিসার আবুল কালাম সিকদারের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি তদন্ত শুরু করেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর তদন্ত কমিটির সদস্যরা ব্যাংকের গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের এজিএম মো. বাবুল হাওলাদারের কাছে প্রতিবদেন দাখিল করেন।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আসামিরা পর্যায়ক্রমে ঋণ গ্রহীতার বিভিন্ন নামে জাল কাগজপত্র তৈরি করেন। তারা নিজেরা ঋণ গ্রহীতার স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংকের ভাটিয়াপাড়া শাখা হতে ২ কোটি ৫৫ লাখ ৭ হাজার ৫শ’ ৬৪ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন।
মামলার বাদী সোনালী ব্যাংকের ভাটিয়াপাড়া শাখা ব্যবস্থাপক মো. মোসলেম মোল্লা বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বাদী হয়ে কাশিয়ানী থানায় মামলা দায়ের করেছি। অভিযুক্ত মো. ফেরদৌস আলম, এসএম জাহাঙ্গীর আলম, মো. জাহাঙ্গীর সরদার, সন্তোষ কুমার মৈত্র বিভিন্ন সময় ব্যাংকের এ শাখার ম্যানেজার ছিলেন। অপর আসামি মো. আকতার হোসেন অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তারা সবাই চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন।
কাশিয়ানী থানার ওসি একেএম আলী নূর হোসেন বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করবে। বৃহস্পতিবার আমরা মামলাটি দুদকে পাঠিয়ে দিয়েছি।
ইত্তেফাক/আরকেজি
