নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার আফসানা বেগম (২১) নামে এক গৃহবধূকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দাবিকৃত যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ ফেলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
অপরদিকে, নিখোঁজের চারদিন পর ইউনাইটেড মেলামাইন কারখানার শ্রমিক কুলসুম আক্তারের (১৬) লাশ একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ওইস্থানে ফেলে রাখা হয় বলে নিহতের পরিবারের দাবি। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রুবেল নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ইছাখালী গ্রামে ও তারাব পৌরসভার তেতলাবো এলাকায় ঘটনা দুইটি ঘটে। জোড়া লাশ উদ্ধারের বিষয় নিশ্চিত করেছেন রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইসমাইল হোসেন।
আফসানার মামা তারিকুল ইসলাম জানান, ৫ বছর আগে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাওড়া গ্রামের আসাদুল্লাহ মিয়ার মেয়ে আফসানার সাথে একই ইউনিয়নের ইছাখালী গ্রামের কামাল মিয়ার ছেলে রাসেলের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে আলভী (৪) নামে একটি সন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকেই রাসেল মাদকাসক্ত হয়ে পরেন। তিনি যৌতুকের জন্য প্রায়ই নির্যাতন করতেন। এনিয়ে স্থানীয়ভাবে অনেক বিচার সালিস হয়েছে। সর্বশেষ এবছরের অক্টোবরে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্ত আফসানা তার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে স্বামীর সংসারে নির্যাতন সহ্য করেই টিকে থাকার সম্মতি জানান।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালেও স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে অমানুষিক নির্যাতন শুরু করে। এ সময় প্রতিবেশীরা তার আর্তচিৎকার শুনতে পায়। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ ঘরে ফেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন আলভীকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। আফসানার নিজ ঘরে লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে।
অপরদিকে, কয়েকমাস ধরে চাঁদপুর সদর থানাধীন বহরিয়া এলাকার আমির হোসেনের মেয়ে স্থানীয় ইউনাইটেড মেলামাইন কারখানার শ্রমিক কুলসুম আক্তার (১৬) পরিবার নিয়ে উপজেলার তেতলাবো এলাকার অলিউল্লার ভাড়াটিয়া বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। রবিবার সকালে কারখানায় যাওয়ার পথে কুলসুম আক্তার নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও কোনো সন্ধান না পেয়ে তার মা তাসলিমা বেগম রূপগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
বৃহস্পতিবার সকালে কারখানার পাশের ডোবায় তার মৃতদেহ দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। কুলসুমকে কাজে আসা যাওয়ার পথে প্রায়ই তেতলাবো এলাকার আব্দুল হকের ছেলে রুবেল হোসেন উত্ত্যক্ত করত বলে জানান নিহতের বাবা আমির হোসেন।
নিহতের শরীরে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, কুলসুমকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মৃতদেহ গুম করার উদ্দেশে ডোবায় ফেলে দেয় রুবেল। দুপুরে তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রুবেলকে আটক করেছে পুলিশ।
রূপগঞ্জ থানার ওসি মো. ইসমাইল হোসেন জানান, নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুই ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় আলাদা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পৃথক ঘটনায় অভিযুক্তরা সকলে অচিরেই আইনের আওতায় আসবে বলে দাবি করেন ওসি।
ইত্তেফাক/আরকেজি
