আগামীকাল ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২০তম বর্ষপূর্তি। প্রায় দুই যুগের সংঘাত বন্ধে ১৯৯৭ সালের এই দিনে সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির ২০তম বর্ষপূর্তিকে স্মরণীয় করে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ, খাগড়াছড়ি সেনা রিজিওন ও জেলা প্রশাসন বর্ণাঢ্য র্যালি, সেমিনার, আলোচনা সভা, ফানুস উত্তোলন, প্রদীপ প্রজ্বলন, আতশ বাজি উৎসব, সম্প্রীতি কনসার্ট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ তিন দিনের কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।
এবার ২ ডিসেম্বর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর কারণে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ২ ডিসেম্বরের পরিবর্তে আজ শুক্রবার খাগড়াছড়িতে দিনটি পালন করা হচ্ছে নানান আনুষ্ঠানিকতায়। আজ ১ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চত্বরে কেক কাটা ও শান্তির পায়রা উড়িয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার শুভ উদ্বোধন করেছেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। এসময় খাগড়াছড়ির জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, সেনা রিজিওন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, জেনারেল সদর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল জি এম সোহাগ, জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আলী আহম্মদ খান, ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী ও টাস্কফোর্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
শোভাযাত্রায় খাগড়াছড়িতে বসবাসরত জাতিগোষ্ঠীর শত শত নারী পুরুষ ঐতিহ্যবাহী নিজস্ব পোষাকে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে।শোভাযাত্রাটি জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে চেঙ্গী স্কয়ার ও শাপলা চত্বর হয়ে টাউন হল প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এদিকে দিবসটি উপলক্ষে গত ২৯ নভেম্বর পৌর শাপলা চত্বরে প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী, গতকাল ৩০ নভেম্বর বিকালে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনষ্টিটিউটে 'পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিঃ শান্তি ও উন্নয়ন' শীর্ষক সেমিনার এর আয়োজন করা হয়। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাকসুদুর রহমান সিদ্দীকি, ডিজিএফআই খাগড়াছড়ি ইউনিটের অধিনায়ক কর্নেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, সদর সেনা জোনের অধিনায়ক লে. কর্নেল জি এম সোহাগ, জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম, খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শাহ আলমগীর, পুলিশ সুপার আলী আহম্মদ খান, ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী ও টাস্কফোর্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা, পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য খগেশ্বর ত্রিপুরা ও প্রবীণ সাংবাদিক তরুণ ভট্ট্যচার্য।
ইত্তেফাক/জামান
