পুঁজিবাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে। গত ১৪ মাসের তুলনায় গতকাল বুধবার বাজারে সবচেয়ে কম লেনদেন হয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন এই দরপতন কৃত্রিম এবং এটি ২০১০ সালের মতো আরেকটি বড়ো ধসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বাজারকে। ফলে, বিনিয়োগকারীদের অনেকেই পুঁজি হারিয়ে বাজারবিমুখ হচ্ছেন।
দরপতনের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) দায়ী করে বিক্ষোভ, মানববন্ধন করেছে বিনিয়োগকারীরা। বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বিক্ষোভে বক্তারা বলেন, আইপিও এবং প্লেসমেন্ট শেয়ারের অবৈধ বাণিজ্য চলছে বিএসইসির পরোক্ষ সহযোগিতায়। তারা বিএসইসির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইস্যুয়ার কোম্পানির হয়ে দালালির অভিযোগ করেছেন। তাদের মতে, বিএসইসি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এতে গোটা দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে, দরপতন ঠেকিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। গত মঙ্গলবার ডিএসই, ডিএসই ব্রোকার অ্যাসোয়িশেন, মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএসইসি। এতে প্রাপ্ত বিভিন্ন সুপারিশ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এরমধ্যে রয়েছে— বাজারে নেটিং পদ্ধতি চালু, বুক বিল্ডিং পদ্ধতি সংস্কার, আইপিওতে মানসম্মত কোম্পানি নিয়ে আসা, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর শাখা বা বুথ বাড়ানো, তারল্য সংকট লাঘবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ব্রোকার হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে বন্ড ইস্যুর সুযোগ প্রভৃতি। এসব বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বিএসইসি বৈঠক করবে বলে জানা গেছে।
গত জানুয়ারি থেকেই বাজারে পড়তির ধারা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বুধবারও তাই হয়েছে, যা লেনদেন এবং সূচক পতনের দিক দিয়ে গত ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। বুধবার ডিএসইএক্স ৫৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৬১ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে ২৭৫ কোটি টাকার। লেনদেনকৃত ৩৪৮টি কোম্পানির মধ্যে দর কমেছে ২৩১টির, বেড়েছে ৬৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৩টি কোম্পানির শেয়ারের দর।
ঢাকার মতোই বুধবার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক সিএসপিআই ১৬৫ পয়েন্ট কমেছে। লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি টাকার শেয়ার। লেনদেনকৃত ২৩০টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ৫৫টির, কমেছে ২৪১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৪টি কোম্পানির শেয়ারের।
এর প্রতিবাদে বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বিল্ডিংয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ। পরিষদের সভাপতি মিজান-উর-রশিদ বলেন, বিএসইসির চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাজারের স্বার্থ দেখার। কিন্তু তিনি নিজের স্বার্থে ইস্যুয়ার কোম্পানির দালালি করছেন। যে কারণে পুরো বাজার আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় ২০১০ সালের মতো বড় ধসের কবলে পড়তে পারে বাজার।
বিক্ষোভ সমাবেশে বিনিয়োগকারীরা বলেন, বিশ্বজুড়ে যে দক্ষ মনিটরিং ব্যবস্থা থাকে এখানে তার ঘাটতি রয়েছে। এখানে টাকার বিনিময়ে আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়। আইপিও, প্লেসমেন্ট বাণিজ্য বন্ধ করে বাজারকে গতিশীল করতে তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
