মাছের রাজ্য রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৭, ২০:১৫
 
বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর স্বচ্ছ কাঁচে তৈরি বিশাল অ্যাকুরিয়াম। এর ভেতরে যেতে হয় সুড়ঙ্গের আদলে তৈরি আঁকাবাঁকা পথে। ওখানে হরেক রকমের সামুদ্রিক মাছ ও প্রাণী। সমুদ্রের তলদেশে যা আছে এই অ্যাকুরিয়ামেও তা-ই রয়েছে। বলা যায়, মাছের রাজ্য রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড। 
 
একটি অ্যাকুরিয়াম বদলে দিয়েছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের চেহারা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এধরনের মাছের রাজ্য কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত নগরীতে তৈরি করেছেন উদ্যোক্তা মোহাম্মদ শফিকুর রহমান চৌধুরী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
 
এতে উপস্থিত ছিলেন- সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান প্রমুখ।
IMG0 
মাটির নিচে তৈরি ফিস ওয়াল্ড অ্যাকুরিয়ামের ভেতর আপনি দাঁড়িয়ে আছেন। দেখবেন, আপনার চারদিকে সামুদ্রিক প্রাণীর দৌড়ঝাঁপ। হাতের কাছে, মাথার ওপর চারদিকে। আপনি দাঁড়িয়ে অথবা হেঁটে এসব মন ভরে দেখলেন। মনে হবে, আপনি সমুদ্রের তলদেশে নেমে এ প্রাণিকুলের সঙ্গে খেলছেন। এই হচ্ছে সামুদ্রিক মাছ ও প্রাণীর রাজ্য ‘রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড ’এর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা।
 
বৈদ্যুতিক আলোয় অ্যাকুরিয়ামের ভেতরের প্রাণীগুলোর দৌড়ঝাঁপ যেকোনো মানুষকে আকৃষ্ট করবে। এখানে জীবিত মাছ ছাড়াও রয়েছে মৃত মাছও। ফিস ওয়ার্ল্ড দেখতে স্থানীয়রা তো আছেনই পাশাপাশি প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি পর্যটকও ভিড় করবেন এখানে।
 
জীবন্ত অথচ বিরল ও বিলুপ্ত প্রায় সামুদ্রিক প্রাণী দেখার সুযোগ সৃষ্টি ও মেরিন সাইন্স নিয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের কাছে গবেষণার ভূমিকা রাখবে এই অ্যাকুরিয়াম।
 
অ্যাডভোকেট আয়াছুর রহমান বললেন, সমুদ্রের তীরে (কক্সবাজার) ৫২ বছর কাটিয়ে দিলাম। সামুদ্রিক মাছ খেয়ে আমরা বেঁচে আছি। অথচ এই জীবনে কোনো দিন জীবন্ত হাঙ্গর, মাইট্যা, গুইজ্যা, রুপচাঁদাসহ অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী দেখার সুযোগ হয়নি। কক্সবাজারে এ রকম জীবন্ত সামুদ্রিক মাছের অ্যাকুরিয়াম গড়ে তুলায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত। সমুদ্রের তলদেশে অ্যাকুরিয়ামের মাধ্যমে জীবন্ত প্রাণীগুলো দেখা পর্যটকদের জন্য রীতিমতো রোমাঞ্চকর। অন্য রকম অভিজ্ঞতা।
IMG1
রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ডের স্বত্বাধিকারী মো. শফিকুর রহমান চৌধুরী জানান, অ্যাকুরিয়ামটি দেশি বিদেশি পর্যটকদের যেমন আনন্দ দিবে তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেরিন সাইন্স নিয়ে পড়ুয়ারা এখানে এসে সামুদ্রিক প্রাণী নিয়ে গবেষণা কাজ চালাতে পারবে। অ্যাকুরিয়ামে প্রবেশে টিকেটের মূল্য ধরা হয়েছে দেশি পর্যটক প্রতিজন ১ হাজার টাকা এবং বিদেশি পর্যটকদের জন্য ২ হাজার টাকা। তবে বর্তমানে ডিসকাউন্ট দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া শিশু ও শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে টিকেট মূল্য আরো কম বলে জানান তিনি।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি