ঝুঁকিতে বসবাসকারী নারীদের জীবনমুখী শিক্ষা

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৭, ১০:১৭
 
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় গ্রামীণ হতদরিদ্র, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত ও শিক্ষা সুবিধা বঞ্চিত নারীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করছে ব্যবহারিক সাক্ষরতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচী।
 
এ কর্মসূচীর মাধ্যমে নিরক্ষর কর্মজীবী নারী জনগোষ্ঠী জীবনমুখী শিক্ষা গ্রহণ করে নাম ঠিকানা, বাজারের ফর্দ ,চিঠি, দরখাস্ত লিখন, পত্রিকা পঠন, ক্যালকুলেটর ও মোবাইল ব্যবহার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করছেন। এছাড়া তারা পরিবার পরিকল্পনা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, পয় নিষ্কাশন, মানবাধিকার, নারী পুরুষের সমতা ও  জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা সম্পর্কে জানতে পারছেন।
 
ডেনমার্ক সরকারের সহায়তায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় 'জলবায়ু সহনশীল গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পের' আওতায় এ চলতি বছরের ১৬ আগস্ট থেকে ৪ মাস ব্যাপী এ কর্মসূচী শুরু করেছে। চলবে আগামী ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ১৮টি শিক্ষা সেন্টারে ৩৬০ জন গ্রামীণ নারী এ ব্যবহারিক সাক্ষরতা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন।
 
মুকসুদপুর উপজেলার জানবাগ গ্রামের শিক্ষা সুবিধা বঞ্চিত নারী  মনিকা শীল (৪০) বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা করে স্বাভাবিক ভাবে বাঁচার জন্য এলজিইডি ও ডানিডা আমাদের নিয়ে চুক্তিবদ্ধ শ্রমিক দল গঠন করেছে। আমাদের প্রতিটি দলে ২০ জন করে সদস্য রয়েছে।  তারা কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে রাস্তা, মিনি স্ট্রাকচার নির্মাণ, খাল খননে আমাদের সক্ষম করে তুলেছে। প্রতিটি দল ঠিকাদারের মতো উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে শর্ত সাপেক্ষে সরকারি মূল্যে শিডিউল মতে চুক্তিবদ্ধ হয়ে স্কিম বাস্তবায়ন করছে। এ কাজ থেকে আমরা পারিশ্রমিক পাচ্ছি। কাজ শেষে লাভের টাকা হাতে পাব। এ টাকা দিয়ে আয় বৃদ্ধি মূলক কাজ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা করবো। এ কাজ করতে লেখাপড়া জানার দরকার রয়েছে। তাই এলজিইডি ও ডানিডা সাড়ে ৩ মাস আগে আমাদের জন্য গ্রামে গ্রামে শিক্ষা সেন্টার স্থাপন করে ব্যবহারিক সাক্ষরতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচী শুরু করেছে। এখান থেকে আমরা জীবনমুখী শিক্ষা গ্রহণ করছি।
 
IMG0
 
মুকসুদপুর উপজেলার জানবাগ গ্রামের শিক্ষা সুবিধা বঞ্চিত নারী  রোজিনা বেগম (৩২) বলেন, এখানে কোডেক কারিকুলামের 'পড়ালেখা' বই পড়ানো হচ্ছে। এ বই থেকে আমরা পড়াশোনা করে শিখছি। এখানে সাড়ে ৩ মাস শিক্ষা গ্রহণের পর লিখতে পড়তে পাড়ছি। দৈনন্দিন জীবনের ছোট খাটো হিসাব নিকাশ করতে পারছি। পরিবার পরিকল্পনা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, পয় নিষ্কাশন, মানবাধিকার, নারী পুরুষের সমতা ও  জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা সম্পর্কে জানতে পেরেছি। এখন জলবায়ু সহনশীল গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ থেকে আয়ের টাকা দিয়ে সংসারের আয় বৃদ্ধিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারব।
 
জানবাগ গ্রামের শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক মিতালী আক্তার মিত্তু বলেন, এখান থেকে জীবনমুখী শিক্ষা গ্রহণ করে তারা নাম ঠিকানা, বাজারের ফর্দ, চিঠি, দরখাস্ত লিখন, পত্রিকা পঠন, ক্যালকুলেটর ও মোবাইল ব্যবহার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করছে। ব্যবহারিক সাক্ষরতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচী শেষে তারা অধিকার সম্পর্কে আরো বেশি সচেতন হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
 
প্রকল্পের ডিটিএ মো. আবুল কালাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকির মধ্যে বসবাসকারী অতি দরিদ্র মহিলাদের টেকসই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতেই ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জে এ প্রকল্প শুরু করা হয়েছে। প্রত্যেক গ্রুপকে ৪ মাস অআনুষ্ঠানিক শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। আত্মকর্ম সংস্থান সৃষ্টিতে  তারা যাতে তাদের উপার্জিত অর্থ দিয়ে ভবিষ্যতে আয় বর্ধক কাজ করতে পারে সেজন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায়ন, স্বাবলম্বী ও উপার্জনক্ষম করে তোলা হবে। পাশাপাশি তারা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম হবে।
 
ইত্তেফাক/জামান