গোলাপ চাঁন জীবন যুদ্ধে আজও লড়াকু সৈনিক

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৫:৪০
 
মাত্র আড়াই বছর বয়সে অগ্নিকাণ্ডে পা পুড়ে যায় গোলাপ চাঁনের। এরপর থেকে মাটিতে ছেঁচড়ে ছেঁচড়ে চলা তার। জুতা মেরামতের কাজ করে ৩২ বছর কাটালেও দুঃখের দিন শেষ হয়নি আজোও গোলাপ চাঁনের। জীবন যুদ্ধে আজও তিনি লড়াকু সৈনিক। শারীরিক প্রতিবন্ধীত্বকে অনেকে পূঁজি করে ভিক্ষাবৃত্তি করলেও গোলাপ চাঁন তাদের মধ্যে ব্যতিক্রম।
 
সরেজমিনে গোলাপ চাঁনের সঙ্গে আলাপ কালে জানা গেছে, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মোলামগাড়ীহাট বাজারের রামনাথ রবিদাসের ছেলে তিন। নিজ বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাম পা পুড়ে যাওয়ার ফলে তিনি দাঁড়িয়ে চলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। সেই থেকে মাটিতে ছেঁচড়ে ছেঁচড়ে চলা শুরু। কিশোর বয়সে দু-চার মাস কষ্ট করে স্কুলে গেলেও পেটের তাগিদে তাও বন্ধ হয়ে যায় একদিন। অন্যের বাড়ি থেকে খাবার সংগ্রহ করেও তাকে ক্ষুধা নিবারণ করতে হয়েছে। হতদরিদ্র হলেও আত্মসম্মান বোধ থাকার কারণে ভিক্ষা বৃত্তির পেশা বেছে না নিয়ে তিনি মোলামগাড়ীহাট বাজারে ছোটো পরিসরে জুতা মেরামতের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন। কিন্তু মানুষ তো আর একা চলতে পারেনা। তিনি বিয়ে করেন এক সময়। ভূমিহীন গোলাপচাঁন মোলামগাড়ীহাট বাজারে কোনমতে মাথা গোঁজার ঠাঁই আছে মাত্র। বর্তমানে তার স্ত্রী শারতী ছাড়াও আছে তার দুই সন্তান। প্রথম সন্তান মেয়ে কবুতরি বর্তমানে মোলামগাড়ীহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। ছেলে মিঠুন বাবু স্থানীয় এক স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।
 
IMG0
 
চার জনের সংসার অনেক কষ্ট করে গোলাপ চাঁনকে চালাতে হয়। জুতা মেরামতের কাজ করে দৈনিক সর্বোচ্চ দুইশ' টাকা পেলেও চার সদস্যের পরিবারে পেটের ভাত যোগানো যেখানে কঠিন, সেখানে ছেলে মেয়ের পড়াশোনা কিংবা তাদের সাধ আহ্লাদের বিষয়টি যেন দিবা স্বপ্নের মতোই অলীক ও কাল্পনিক। ২০০৭ সাল থেকে সামান্য প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন যা বর্তমানে প্রতি মাসে সাতশ' টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও তিনি কোন সরকারি বেসরকারি সাহায্য পাননি। বর্তমানে ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে তার নাভিশ্বাস উঠেছে।
 
একান্ত সাক্ষাৎকারে গোলাপচাঁন আবেগ আপ্লুত হয়ে ইত্তেফাককে বলেন, আমার যদি চলার একটা হুইল চেয়ার আর ছোটখাটো একটা ব্যবসার দোকান থাকতো, তাহলে কিছুটা কষ্ট লাঘব হতো। বাচ্চাদের লেখাপড়ার খরচ ও দুমুঠো পেটপুরে খাবার দেয়া যেতো।
 
ইত্তেফাক/জামান